র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরামের বিপ্লব দিবসের সভায় বিএনপি’র কমিটি গঠনের দাবী

৭৫’র ৭ নভেম্বরের ঘটনা জাতির পরাধীনতা রক্ষা করেছে : আব্দুস সালাম

নিউইয়র্ক: কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের ঘটনা জাতিকে পরাধীনতার হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে কোন আপোষ, বিতর্কের কোন সুযোগ নেই, দেশের প্রকৃত ইতিহাস বিক্রি বা বিকৃত করার কিছু নেই। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া সেনা নায়ক থেকে রাষ্ট্র নায়কে পরিণত হয়েছেন। জিয়াউর রহমান ক্যু করে বা মার্শাল্লা দিয়ে ক্ষমতায় বসেননি। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সিপাহী-জনতা তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসান বলেই জিয়া সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। তিনি বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম উপরোক্ত কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি তারেক চৌধুরী দীপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জাসাস-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক মহিলা সম্পাদিকা সৈয়দা মাহমুদা শিরীন। খবর ইউএনএ’র।
ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমের যৌথ পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মওলানা আবুল কালাম। সভায় অতিথিবৃন্দ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি নেতা মার্শাল মুরাদ, ছাইদুল হক, বিএনপি নেতা ও তারেক প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাফেল তালুকদার, ফোরামের সভাপতি নাসিম আহমেদ, বিএনপি নেতা শাহাদৎ হোসেন রাজু, শেখ হায়দার আলী, মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, তারেক রহমান, ব্রুকলীন বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, সাবেক ছাত্রনেতা একেএম আজিজুল বারী প্রমুখ। সভায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন মতিউর রহমান লিটু।
সভায় কমিউনিটি নেতা আলী ইমাম, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি খালেক আকন্দ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাবেক সভাপতি সারোয়ার খান বাবু সহ সর্বস্তরের বিএনপি নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা দেশ ও প্রবাসে বিএনপিতে ঐক্যের যে সূচনা হয়েছে, সেই ঐক্যকে ধরে রেখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়াও বক্তারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালামের মাধ্যমে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা করেন। 
সভায় আব্দুস সালাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সেদিন জিয়ার নামে শ্লোগান হলো কেন? জিয়ার নাম এক নম্বরে আর কর্নেল তাহেরের নাম দুই নম্বরে আসলো কেনো? তখন তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো। সেদিন সেনা সদরের ভিতরে কি হয়েছে তা জানি না, তবে সেনা সদরের বাইরে রাজপথে সিপাহী-জনতার দেশপ্রেমে কোন ঘাটতি ছিলো না। সেদিন জিয়া সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছন বলেই পরবর্তীতে হত্যার শিকার হন।
তিনি বলেন, আওয়ামী-বাকশালী অত্যাচারে দেশের রাজনীতি আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যায়। জিয়া বহুদলীয় রাজনীতি কায়েম করে সেই রাজনীতি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। শহীদ জিয়া ছিলেন দূরদর্শী নেতা। জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর হতো।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই শেখ মুজিবকে ‘জাতির জনক’ বানাতে দেয়নি। আওয়ামী লীগই তার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে। আর শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্য চায় না। তিনি বলেন, জিয়া যতদিন রাজনীতি করেছেন, শেখ মুজিব তার চেয়েও বেশী জেল খেটেছেন। অথচ কর্মগুণে জিয়া জগণের ভালোবাসা অর্জন করে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। আজো তাদের জনপ্রিয়তার কারনেই ‘জিয়া-খালেদা’ আর ‘মুজিব-হাসিনা’র ছবি নিয়ে দেশের নির্বাচন।
আব্দুস সালাম বলেন, জিয়াউর রহমান সত্যিকারেই দেশপ্রেমিক, সৎ মানুষ ছিলেন বলেই তার তোন বাড়ী-গাড়ী ছিলো না, ব্যাংক ব্যালেন্স ছিলো না। ফলশ্রুতিতে জিয়া শহীদ হওয়ার পর দেশের জনগনই তার পরিবারকে দেখাশুনা করেছেন, এখনো করছেন। তিনি বলেন, রাজনীতির কারনেই তারেক রহমান বাংলাদেশের কর্ণধার হবেন। তিনি বলেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ৮০ ভাগ ভোট পাবে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাম্প্রতিক জন¯্রােত দেখে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী অত্যাচার-নির্যাতনে আমাদের ঘাবরানোর কিছু নেই, ভয় পাবার কিছু নেই, সময় আসছে। দেশে আর ৫ জানুয়ারীর মতো ভোটার বিহীন নির্বচন করতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের উপর আস্থা রাখুন।
তিনি বলেন, আমরা কারো দয়ায় স্বাধীনতা পাইনি। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তবে কেউ সাহায্য করতে পারে বলেই বাংলাদেশকে নেপাল-ভুটান ভাবা ঠিক হবে না। বাংলাদেশকে গ্রাস করা যাবে না। জিয়ার সৈনিকরা বেঁচে থাকতে সেটা হবে না। দেশকে বাঁচাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম বলেন, একজন রাজনীতিক হিসেবে আমিও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি চাই। অনেক আগেই এই কমিটি হওয়া দরকার ছিলো। এই যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক নেতা আছেন যারা কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। তবে বিদেশে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর।
ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর আর পচাত্তুরের ৭ নভেম্বর আমাদের বিশেষ দিন। এসব দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকে রাখতে ৭ নভেম্বরের ঘটনার ভূমিকা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের দাবী জানান।
আজহারুল হক মিলন বলেন, যে জিয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে এনে রাজনীতির সুযোগ দেন। সেই দলের নেতারা জিয়াকে চেনেন না। তিনি যুক্তরষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দাবী করে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। চিৎকার করে আর তত্ত্ব কথা বলে লাভ হবে না, কমিটি দরকার।
জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, একাত্তুরের ১৬ ডিসেম্বরের পর পঁচাত্তুরের ৭ নভেম্বর আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনেই প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি হিপাক্র্যাট পার্টি।
অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে যখন বিব্রত তখন জিয়া দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আর ১৯ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে জিয়া বিএনপকে জনগনের দলে পরিণত করেন। তিনি বলেন, প্রসাদ ষড়যন্ত্রে মুজিব-জিয়া নিহত হন।
সামসুল ইসলাম মজনু বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ ুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, আরেকদিকে সৈনিক হত্যা দিবস। এভাবে জাতিকে বিভক্ত করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দাবী করেন এবং এজন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করার আহ্বান জানান।
মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল বলেন, সোজা কথায় আন্দোলন হবে না। আমাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিতে হবে।
কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম বলেন, মতিয়া-ইনুদের কথায় আওয়ামী লীগ চলছে। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। তিনিও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের দাবী জানান।
গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়ী বহলে হামলার নিন্দা জানান।
ছাইদুল হক বলেন, শহীদ জিয়াই সত্যিকারে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী-বাকশাল উৎখাতে আরেকটি বিপ্লব দরকার।
সৈয়দা মাহমুদা শিরীন বলেন, শুধু সভা-সমাবেশ করে লাভ হবে না, দলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে, সম্মান দিতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।
রাফেল তালুকদার বলেন, সময় বেশী দূরে নেই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।
নাসিম আহমেদ বলেন, বিশ্বাসী জিয়াউর রহানকে চেনেন, আর আওয়ামী লীগের নেতারা জিয়াকে চেনেন না। যারা জিয়াকে চেনেন না, তাদের জঙ্গলে থাকা উচিৎ।

 

এ রকম আরো খবর

  • ঢাকা’র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ২৮ সেপ্টেম্বর
  • শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ’র ইনক ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন
  • ‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ
  • অটোয়ায় ৩২তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
  • এনএবিসি কনভেনশন ৩২তম না দশম?
  • বোস্টনে ‘৩২তম’ নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেশন অনুষ্ঠিত
  • হাসান জিলানীর মাতৃবিয়োগ
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে নিউইয়র্কে সমাবেশ
  • বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন : মুখোমুখি দুই প্যানেল : মনোনয়ন ফি বাবদ আয় ৯৪ হাজার ৫০০ ডলার : স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল-সোহেল
  • বিএমএএনএ’র নতুন কমিটি
  • জেএফকেতে গনঅভ্যর্থনার প্রস্তুতি: কমিটি নিয়ে চলছে কানাঘোষা : ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা
  • উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.