র্সবশেষ শিরোনাম

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

লেবাননে হস্তক্ষেপের হাত আটকে গেছে কি?

আবু জাফর মাহমুদ: কাতারের সঙ্গে যে আচরণ করছে লেবাননের সঙ্গে সেই একই আচরণ করার সমালোচনা আসছে সৌদি সরকা্ররে সম্পর্কে। লেবাননের ওপর সৌদি সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে নেমেছে যেমন কাতারের উপর চলছে।তবে লেবাননকে দূর্বল করার লক্ষ্যে ইজরাইলের স্বার্থ সৌদির চেয়ে সরাসরি বিধায় বিশ্লেষকরা বলছেন সৌদি সরকার ইজরাইলের নির্দেশ পালন করছে এবং তাতে সমর্থন করছে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা।
হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেবাননের ভেতর থেকেই একটা বিরোধীতা চাইছে ইজরাইল-সৌদি-আমেরিকা বলয়। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী হারারিকে দিয়ে চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের বিশাল বোমাটি বেলুনের মতো ফেটেছে মনে করছেন অনেকে। হারারির পদত্যাগ সমস্যার সমাধান হয়নি। সৌদির সাথে জার্মান সম্পর্কে উত্তাপ বেড়ে গেছে সাদ হারারির পদত্যাগ সংবাদের পর।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল গত শুক্রবার বার্লিন সফররত লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সৌদি আরবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আটক রয়েছেন বলেই হয়ত দেশটি ত্যাগ করতে পারছেন না। তিনি হারিরির বিষয়ে সৌদি সরকারের আচরণকে অস্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন। হারিরি অবিলম্বে লেবাননে ফিরে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন গ্যাব্রিয়েল।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব ১৮ই নভেম্বর শনিবার বার্লিনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে রিয়াদে ফিরিয়ে এনেছে। রিয়াদে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি প্রতিবাদ-লিপি দেয়ার কথাও ভাবছে রাজতান্ত্রিক সৌদি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র বিভাগ।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার দুই সপ্তাহ পর তিনি রাজতান্ত্রিক দেশটি ত্যাগ করলেন। হারিরি এরইমধ্যে ফ্রান্সে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে খবর এসেছে।
সৌদি রাজপরিবার রাজতন্ত্রের পতনের ধারাবাহিক পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে শত্রু খাড়া করে চলেছে ইরান,সিরিয়া, ইয়েমেন,কাতার ইরাক ও লেবাননকে।রাজতান্ত্রিক অপরাপর ক্ষুদ্র দেশগুলোয় জবরদস্তি করে তল্পিবাহক সরকার বসিয়ে রাখলেও এরা মূলতঃ ইজরাইল আমেরিকাকে খাজনা দেয়ার কাজটাই করে দেশেষ চলেছে।আল্লাহ্র বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট খনিজ সম্পদ ও মেহেরবাণী প্রাপ্ত এই অঞ্চলের শাসকরা এমন পথ ধরে চলছে যাতে দিনের পর দিন তাদের নিয়ত্রণে থাকা সম্পদ হারাচ্ছে এবং তা দখল করে চলেছে আল্লাহ্র আইন ও পথের প্রতি বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো খুবই বিচিক্ষণতার সাথে ঈমান হারানো মুসলমান শাসকদেরকে কাজে লাগিয়ে বা দালাল নিয়োগ করেই মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ বিরোধ উস্কে দিচ্ছে এবং এই বিবাদকে যুদ্ধে রূপান্তর করে একদিক মুসলমাদে ঈমান দূর্বল করছে,দূর্বল করছে সামর্থ্য এবং অপরদিকে নির্ভরশীল করছে আল্লাহর পরিবর্তে এমন শক্তির উপর যার নিজেরই টিকে থাকার নিজস্ব শক্তি নেই।
সৌদিরাজপরিবার যা করছেন, তাতে অনেকে তাদেরকে ইয়াজিদের অনুসারী বলছেন। অথচ মুসলমানদের উৎপত্তি স্থলে এই সরকার রাষ্ট্রপরিচালনা করে চলেছে। বিশ্বের সকল মুসলমান আশা করছেন,সৌদি আরব সা¤্রাজ্যবাদী খেলায় জড়িত থেকে নীরিহ মানুষ হত্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। সারা দিনিয়ার মুসলমানদের নেতৃত্ব করুক ইসলামের পবিত্র পথে মহানবীর পথ ধরে। শিয়া সুন্নীর ব্যবধানের দেয়াল তুলে নিয়ে ইরান ইরাক সৌদি ইয়েমেন সিরিয়া লেবানন সবাই মিলে মধ্যপ্রাচ্যের সকল সমাজে শান্তির জন্যে পরস্পর পরস্পরের সহায়ক থাকুক। আধুনিক টেকনোলজির জন্যে ইওরোপ আমেরিকা সাথে বন্ধুত্ব করুক। চীন রাশিয়ার সাথে বন্ধন অটুট রেখে বিশ্ব নেতৃত্ব কাঠামোকে সমৃদ্ধ করুক।
তবে বাস্তবতা অন্যরকম। রাজপরিবারের ভেতরে যে আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাড়াকাড়ি চালু হয়েছে তাতে ইজরাইলের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে নিজেদের জন্যে কল্যাণের পথ নেয়ার সুযোগ ও অবস্থা আপাততঃনেই বলেই বলা যায়।তাই ধরে নেয়া যায় সৌদি রাজতন্ত্র যেমন বিলোপের পথে দ্রুত ডুবছে,সৌদি আরবের নিরাপত্তাও দ্রুত বিঘিœত হচ্ছে। সৌদি আরব সরকার যে সমর্থনহীন সরকার তা আবার নয়। তবে তাদের সমর্থনের মূল ভিত্তি কে বা কারা সেটা জানা দরকার আগে। যতক্ষণ পর্যন্ত সৌদি সরকার মুসলমান সমাজের সমর্থনপুষ্ট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চিত দূরপাল্লার রাস্তায় তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবেনা বলে কোরআনের তফসিরকারকরা আভাস দিচ্ছেন।
ইসরাইলের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্যে সৌদি যুবরাজ সালমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার বিরোধীতা করে কুয়েতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিরোধী মতের মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর। এই সম্মেলন ইসরাইল ও তার আরব দোসরদের কাছে একটি শক্ত জবাব বলে মনে করা হচ্ছে।রাজা বাদশাহরা ইজরাইলকে মুসলিম এবং আরব বিশ্বের স্থায়ী সদস্য করার জন্যে জোর অবস্থান নিয়েছে।রাজারা দেখাতে চায় ইজরাইল জোর দখলকারী কোন শক্তি নয়, অবৈধ রাষ্ট্র নয়। এটি একটি বৈধ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর সম্পর্কের বিরোধিতার জন্য কুয়েতের মত দেশে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন এ অঞ্চলে ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। অন্য কথায় পারস্য উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এই প্রথম এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ফলে এ অঞ্চলের ইসরাইলমুখি প্রবণতা মারাত্মকভাবে হোঁচট খেলো।
কুয়েত সরকারের ওপর সৌদি সরকারের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসরাইল বিরোধী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের অর্থ হল মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার হিসেবে কুখ্যাত ইসরাইলকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার সৌদি অপচেষ্টার মুখে বড় ধরনের চপেটাঘাত। প্রতিবাদ উঠছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে।
এটা স্পষ্ট যে মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার এবং গণহত্যা ও শিশ-হত্যায় অভ্যস্ত বর্ণবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আরব জনমতসহ বিশ্ব-জনমত। তাই এই সন্ত্রাসী জঙ্গি শক্তির সঙ্গে আপোষ করার সৌদি সরকারী খায়েশ প্রতিবাদে পড়ছে। নানা আন্দোলন, এনজিও এবং পেশাজীবী ও ধর্মীয় সংস্থাগুলোর তীব্র বাধার মুখে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক এবং তা সময়েরও দাবি। তারপরও বাস্তবতা হলো; প্রতিপক্ষ কখনো পরাজয় স্বীকার করে চুপচাপ থাকেনা,প্রবল শক্তিতে উত্থানের জোর চেষ্টা চালায়। ষেষ পর্যন্ত লড়াই করে।
ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতান্যাহু এবং সৌদি রাজপরিবারের যুবরাজ সালমান চুক্তি করছেন।এই ছবি প্রমাণ করছে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো সংঘাতময় হচ্ছে।
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান)।

এ রকম আরো খবর

রাষ্ট্র থাকলো কি গেলো কিচ্ছু যায় আসেনা

আবু জাফর মাহমুদ: রাষ্ট্রশাসন, প্রশাসন, বিচার, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তারবিস্তারিত

বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে

সামসুল ইসলাম মজনু: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি একটি অপরিসীমবিস্তারিত

  • এক শাসক, এক দেশ
  • আসামই কি বাংলাদেশী হিন্দুদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?
  • অতিরাজনীতিই রাজনীতিকের মহাপাপ
  • মার্কিন দূতাবাস এবং বাংলাদেশী রাজনীতি
  • ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বসন্তকালীন মিটিং ও কিছু অম্লমধুর স্মৃতি
  • আরেকটি উইকেটের পতন! বিদায় ডেভিড শালকিন
  • অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের শান্তি
  • এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
  • এক স্লিপ
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বনাম ছাত্র-মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
  • সুস্থ রাজনীতির অভাবে সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ!
  • নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইজরাই
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.