র্সবশেষ শিরোনাম

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

ট্রাম্পের সাশ্রয় হবে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার : ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী নতুন ট্যাক্স আইন পাশ

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির বহুল বিতর্কিত ট্যাক্স আইন পাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সিনেট। গত শনিবার ভোর রাতে ব্যাপক দরকষাকষি ও বাদানুবাদের পর হোয়াইট হাউসের দেয়া ট্যাক্স প্রস্তাবটি সংশোধিত আকারে পাশ হয়েছে। একজন মাত্র রিপাবলিকান সিনেট সদস্য ছাড়া বাকী সবাই ছিলেন এই প্রস্তাবের পক্ষে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা কথিত এই ট্যাক্স আইন পাশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা করলেও সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ এবং ট্যাক্স বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে আইনটি পাশ হয়েছে তা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও নিন্ম আয়ের লোকজনকে নিঃশেষ করে দেয়ার একটি সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা। ইমিগ্র্যান্টদের এগিয়ে যাওয়ার অধ্যায়কে থমকে দেয়াই ট্রাম্পের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এবিষয়ে বাংলা পত্রিকার সাথে আলাপকালে জ্যাকসন হাইটসের সাউথ ইস্ট মাল্টি পারপাসের প্রধান নির্বাহী ড. এহতেশামুল হক বলেন, এবছর এর তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হবে না। তবে আগামী ২ বছরের মধ্যে এই ট্যাক্স আইনে আক্রান্ত হবেন নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা। এখন যারা তিন সন্তানের জনক তারাও ট্যাক্স ক্রেডিট পাচ্ছেন। কিন্তু নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর ২ জনের বেশী কেউ ট্যাক্স ক্রেডিট পাবেন না। অপরদিকে ধনীদের সার্থে কর্পোরেট ট্যাক্স ২৫% কমানো হচ্ছে।
লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, এই আইনের ফলে যারা বছরে ১ লক্ষ বা তার চাইতে বেশী ইনকাম করেন তারাই উপকৃত হবেন। অন্যদিকে ৭৫ হাজার ডলার বা তার চাইতে কম আয়ের লোকজনের ঘাড়ে এখন ট্যাক্সের বোঝা বাড়বে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্যাক্স স্বাশ্রয় হবে বছরে কমপক্ষে এক বিলিয়ন ডলার।
মূলধারার বিশিষ্ট লেবার নেতা মাফ মিছবাহ উদ্দীন নিউইয়র্কের জনপ্রিয় টাইম টেলিভিশনের সাথে আলাপকালে বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে নিউইয়র্ক ষ্টেট, নিউইয়র্ক সিটি, লস এঞ্জেলেস সহ বিভিন্ন অভিবাসী বান্ধব সিটি সমূহ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এর ফলে সিটি, ষ্টেট বিলিয়নস অব ডলারের ফেডারেল সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে। ওবাবাম কেয়ার তারা বাতিল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী এটা একটা চক্রান্ত। ইমিগ্র্যান্টরা বিভিন্ন স্টেটে যখন রাজনীতির নীতি নির্ধারক হিসেবে আভির্ভূত হচ্ছেন তখন তাদের অবস্থানকে নিশ্চিহ্ন করার এটি বড় ধরনের একটি চক্রান্ত। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই তার সব চাইতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে। আইনটি পাসের জন্য রিপাবলিকান নেতাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
গত ২ ডিসেম্বর সিনেটে পুনর্গঠন আইনটি পাস হয় ৫১-৪৯ ভোটে। একমাত্র রিপাবলিকান নেতা হিসেবে টেনিসির সিনেটর বব করকার আইনটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। রিপাবলিকান নেতাদের সবাইকে আইনটির পক্ষে টানতে এমনকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এতে নানা সংযোজন-বিয়োজন করা হয়। এমনকি ভোটের মাত্র এক ঘণ্টা আগেও আইনটির ছাপা অনুলিপির ওপর হাতে লিখে কাটা-ছেঁড়া করা হয়। আর এটি নিয়েই সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ডেমোক্রেট নেতারা। তাঁদের মতে, এভাবে আনা বিভিন্ন সংশোধনী বুঝে ওঠার জন্য আরও সময় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এত দ্রুত আইনটি পাস করিয়ে নেওয়া হয় যে, অনেকের পক্ষেই পুরো আইন ভালোভাবে পাঠ করা সম্ভব হয়নি।
গত মাসে প্রতিনিধি পরিষদে কর পুনর্গঠন আইন পাস হয়েছিল। তবে সেই আইনটি থেকে সিনেটে পাস হওয়া আইনটি অনেক দিক থেকেই আলাদা। বিশ্লেষকদের মতে, দুটি আইন এতটাই আলাদা যে, এ নিয়ে প্রতিনিধি ও সিনেটররা মিলে একটি সম্মেলন করা প্রয়োজন ছিল, যাতে তাঁরা ন্যূনতম একটি সহমতে পৌঁছাতে পারেন। তবে আগে না করলেও এই আলোচনা পর্যালোচনার কাজটি করা হবে। দুই কক্ষে পাস হওয়া দুটি আইনকে সমন্বয় করতে বসবেন সংশ্লিষ্টরা।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বছরের এই শেষ সময়ে এসে কর পুনর্গঠন আইনের ওপরই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। কারণ এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কোনো অর্জন নেই, যা আমেরিকাকে বদলে দিতে পারে। ওবামাকেয়ার, অভিবাসন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস আইনি হোঁচট খেয়েছে। ফলে ক্ষমতার এক বছরের মাথায় অন্তত একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হাজির করতে ট্রাম্প প্রশাসন বলা যায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল কর পুনর্গঠন আইন পাসের ক্ষেত্রে। এ হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদের থেকে আলাদা হলেও সিনেট আইনটি পাস করে ট্রাম্প প্রশাসনকে বড় একটি অর্জন উপহার দিয়েছে।
সিনেটে ৫০ ভোট পেলেও আইনটি পাস করিয়ে নিতে পারতেন রিপাবলিকানরা। কারণ সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেন। ৩০ নভেম্বর রাত থেকেই রিপাবলিকান নেতারা প্রস্তাবিত আইনের পক্ষে সিনেটরদের সমর্থন আদায়ে কাজ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে চলতে থাকে বিভিন্ন সংযোজন বিয়োজনও। এক ধরনের উত্তেজনা চলছিল। বিশেষত ওবামাকেয়ারের পরিণতি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছিল। যদিও কর পুনর্গঠন আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। তবে ১ ডিসেম্বর শেষ মুহূর্তে মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্স প্রস্তাবিত আইনের প্রতি নিজের সমর্থন জানালে রিপাবলিকান শিবির পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হয়। পরে রাতে সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল নিজেদের পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট আছে বলে আশ্বস্ত করেন।
পাস হওয়া আইনটি সম্পর্কে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এ আইনের দ্বারা সম্পদশালী ও ব্যবসায়ীরাই একমাত্র লাভবান হবে। এটা সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আনবে না।
এ আইন কার্যকর হলে করপোরেট করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে আসবে। এ ছাড়া বিদেশের মাটিতে আমেরিকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশই কর রেয়াতের সুবিধা পাবে। তবে এমন পদক্ষেপের কারণে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন সিনেটের বিশেষজ্ঞ কমিটি। কিন্তু তারপরও আইনটি পাসের পেছনে কারণ হিসেবে রিপাবলিকানরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করহার হ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে।

 

এ রকম আরো খবর

কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং টম নাগোরস্কির মধ্যে বৈঠক

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা ১৯ সেপ্টেম্বর এশিয়াবিস্তারিত

গভীর শ্রদ্ধায় ৯/১১ স্মরণ

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘নাইনবিস্তারিত

  • ভয়াল ৯/১১ মঙ্গলবার
  • ইমরান খান-ই পাক প্রধানমন্ত্রী : শপথ গ্রহণ
  • নাইজেরিয়া-য় বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন
  • এ্যাপস ভিত্তিক গাড়ির রেজিস্টেশন আগামী এক বছর বন্ধ ॥ ক্যাবীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া : সিটিতে পার্কিং মিটার রেট ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
  • মানি রেমিটেন্স প্রতিষ্ঠান ‘ফামাক্যাশ’র আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু
  • জোট সরকার গঠন করবে পিটিআই : ইমরান খানই প্রধানমন্ত্রী
  • টাইম টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বৃটেনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল : খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদন্ড স্পষ্ট ধোঁকাবাজি ॥ ‘জিয়া অরফানেজ’ মামলা পুরোটাই ভিত্তিহীন
  • আতœহত্যা বাড়ছেই : বিলুপ্তির পথে ইয়েলো ক্যাব ইন্ড্রাষ্ট্রি!
  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস আজ 
  • স্পেশালাইজড হাইস্কুল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা
  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রথম নারী কনসাল জেনারেল
  • রাজ্য সিনেট: জর্জিয়ায় প্রাইমারী নির্বাচনে বাংলাদেশী শেখ রহমান জয়ী
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.