র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়ম : এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরাসত আলীর পদত্যাগ

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির সব কমিটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে জরুরি পর্ষদ সভায় এসব পরিবর্তন হয়। সভায় পদত্যাগ করা পর্ষদ ও নতুন পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলীকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন তমাল এসএম পারভেজ। ভাইস চেয়ারম্যান তৌফিক রহমান চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন নবী ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুনসেফ আলীকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমডি দেওয়ান মুজিবুর রহমানকে তিন মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিএমডি কাজী মো. তালহাকে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০১৬ সালে এনআরবিসির ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো পৃথক নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে এনআরবিসি ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ফরাসত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আর এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। এমনকি তারা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দ-নীয়।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে গভর্নর ফজলে কবির এমডি দেওয়ান মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় কাউকে অপসারণ করা হলে ওই অপসারিত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কোনো অধিকার থাকে না। এমনকি এ ধারার কোনো আদেশের বিষয়ে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। যদিও এ আইনকে পাস কাটিয়ে উচ্চ আদালতে যান দেওয়ান মুজিব। এ কারণেই ব্যাংকটিতে পরিবর্তন আনতে অনানুষ্ঠানিক চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি শীর্ষ পদে পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ব্যাংকের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ পরিবর্তন এসেছে। আমরা ব্যাংকটিকে ভালো করতে চাই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়।’
আইনি জটিলতার কারণে এমডিকে অপসারণ না করে তিন মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নতুন চেয়ারম্যান পারভেজ। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি এই ব্যাংকটির এমডি মুজিবরকে অপসারণ করার পর তিনি আদালতে গিয়েছিলেন, তাতে হাই কোর্টে তার অপসারণের আদেশ স্থগিত করে। তার কয়েক দিনের মাথায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় মুজিবরকে ছুটিতে পাঠানোসহ অন্যসব পরিবর্তন হয়। সভায় পদত্যাগী পর্ষদ ও নতুন পর্ষদের বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে পারভেজ জানান।
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ধুকছে যাত্রা শুরুর চার বছরেই: এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মতোই ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ফারমার্স ব্যাংক; ঋণ কেলেঙ্কারিতে ধুকতে থাকার মধ্যে সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগ করেন। ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক নিয়ে সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল।
তার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছিল, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংক পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এনআরবিসির বোর্ড সভায় অনুপস্থিত পরিচালকদের স্বাক্ষর জাল করে উপস্থিতি দেখিয়ে পর্ষদ সভার কার্যবিররণী করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে।
ব্যাংকটি গঠনের সময় মূলধন আনায় অনিয়ম, অনিবাসীদের পরিবর্তে বেনামে বাংলাদেশে বসবাসকারী ব্যক্তি কর্তৃক ব্যাংকের শেয়ার কেনা, বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদান এবং ব্যাংক হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির সাথে পর্ষদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সম্পৃক্ততার কথা আসে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানি আইনের বিধান এবং ব্যাংকের আর্টিক্যালস অব অ্যসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে ব্যাংকের একজন পরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে পর্ষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া নিয়ম না মেনে ৬ জন পরিচালকের শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ ও ৩ জন পরিচালককে অপসারণ করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটির শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ডিসেম্বর ২০১৬ প্রান্তিকে ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু জুন ২০১৭ প্রান্তিকে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১৭২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৯১ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
নতুন স্থাপিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণের হারের বিবেচনায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ফারমার্স ব্যাংক রয়েছে প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসার পর গত বছর এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০১৬ সালে এনআরবিসির ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ফরাসত আলী রোববার (১০ ডিসেম্বর) রাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগ করিনি। বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগে সরিয়ে দেয়া পাঁচজনকে পুনর্গঠিত বোর্ডে স্থান দেয়া হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ বলেন, ব্যাংকের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ পরিবর্তন এসেছে। আমরা ব্যাংকটিকে ভালো করতে চাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়।
নতুন ৯ ব্যাংকের নাজুক অবস্থা: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রাজনৈতিক বিবেচনায় পাওয়া চতুর্থ প্রজম্মের নতুন নয় ব্যাংকের। অনুমোদন থেকে শুরু করে বর্তমান কার্যক্রমে ঋণ প্রদানে জালিয়াতি, ঋণ কেন্দ্রীভূত, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ নানা অনিয়ম ও আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে জড়িয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলো। পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগিতে চলছে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এসব কারণে লাভ তো দূরের কথা মূলধনই খেয়ে ফেলছে তারা। আর তাই নতুন ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং খাতের জন্য এক ধরণের হুমকি হিসেব দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক বিষয়ে সতর্ক ও নির্দেশনা দিয়েও নতুন নয় ব্যাংককে শৃঙ্খলায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে এসব ব্যাংক, ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে আর্থিক খাত। যদিও এর আগে যখন নয়টি ব্যাংক দেয়া হয়েছিল তখনও বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার সেখান থেকে আর ব্যাংক দেয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক চিত্রে নতুন-পুরনো সব ব্যাংকের শোচনীয় অবস্থা উঠে এসেছে। সম্প্রতি গভর্নর ড. ফজলে কবির ত্রিশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডিকে) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স পায় নয় ব্যাংক। ফলে তারা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। এসব ব্যাংকের বেশিরভাগ পরিচালক ব্যাংকিং বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। আমানতকারীর অর্থ নিজের মনে করে লুট করছেন তারা। অথচ ব্যাংকগুলোর অনুমোদনের পূর্ব শর্ত ছিল, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেয়া এবং সেবায় নতুনত্ব আনা। কিন্তু নতুন পণ্য তো দূরের কথা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আগ্রাসী ব্যাংকিং চালাচ্ছে তারা। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। তারল্য সংকটসহ মূলধন ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অপসারণসহ চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে। এভাবে চলতে থাকলে অস্তিত্ব হারাবে এসব প্রতিষ্ঠান। বিপাকে পড়বেন আমানতকারীরা। তাই অনিয়ম রোধে এখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে অনুমোদন দেয়া হয় চতুর্থ প্রজন্মের নয় নতুন ব্যাংককে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে ব্যাংক রয়েছে তিনটি- এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। বাকি ছয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন দেশীয় উদ্যোক্তরা। এগুলো হলো- ইউনিয়ন, মেঘনা, মিডল্যান্ড, মধুমতি, দ্য ফারমার্স ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, নতুন নয় ব্যাংকের মধ্যে দু-তিনটির অবস্থা খুবই নাজুক। এদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সার্বিকভাবে তাদের মনিটরিং করা হচ্ছে। এদিকে হাইকোর্টের দেয়া এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক লুটপাটের বিষয়গুলো খুব শক্তভাবে দেখা দরকার। তা না হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।
দ্য ফারমার্স ব্যাংক: কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক। তারল্য সংকটসহ আর্থিক সূচকও অবনতি হয়েছে ব্যাংকটি। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ প্রজম্মের এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ ঋণের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশই খেলাপি। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ২৩৮ কোটি টাকা। শীর্ষ ১০ খেলাপি গ্রাহকের কাছেই ব্যাংকটির পাওনা ১৩৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ব্যাংকটির আসল খেয়ে এখন ৭৫ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এসব অনিয়মের দায় মাথায় নিয়ে চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। পুনর্গঠন হয়েছে পরিচালনা পরিষদ। এমডি এ কে এম শামীমকে অপসারণের নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটি ঠিক মতো চলছে কি না, তা নজরে রেখেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক: ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংকটি। পণ্যের কোনো নতুনত্ব নেই আর্থিক এ প্রতিষ্ঠানের। মানছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতি। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তার নিট মুনাফার ১০ শতাংশ অর্থ সিএসআরে (সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজ) ব্যয় করতে পারে। কিন্তু ২০১৬ সালে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ২০৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করেছে। যা নিয়ম বহির্ভূত।
এনআরবি ব্যাংক: বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স আহরণে ভূমিকা রাখার শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স পায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। অথচ গেল নভেম্বর মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র আট লাখ মার্কিন ডলার। খেলাপি ঋণও বাড়ছে ব্যাংকটির। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি দুই হাজার ৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি টাকা।
ইউনিয়ন ব্যাংক: ইউনিয়ন ব্যাংকে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণ দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি নয় হাজার ১৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন ব্যাংক এ খাতে ব্যয় করেছে ৯৯ শতাংশ। যদিও ইউনিয়ন ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ইকবাল কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মেঘনা ব্যাংক: বিলাসবহুল ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় করছে মেঘনা ব্যাংক। কার্যক্রম চালুর দেড় বছরের মধ্যে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে ভাড়া ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার নামে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় হয়েছে। এসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে ব্যাংকটিকে। এছাড়া ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ গত কয়েক মাস ধরে হুহু করে বাড়ছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ খেলাপি বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এদিকে ব্যাংক পরিচালনায় পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে পদত্যাগ করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নূরুল আমিন।
মিডল্যান্ড ব্যাংক: রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাগামহীনভাবে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির যে পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে এর ৮০ শতাংশই আদায় অযোগ্য। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে। ২০১৫ সালে ব্যাংকটি এ খাতে ব্যয় করেছে ৯২ শতাংশ।
মধুমতি ব্যাংক: কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে মধুমতি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণও। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি দুই হাজার ৪৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর আগে জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ছিল মাত্র পাঁচ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির ঋণ খেলাপি বেড়েছে ২৬২ শতাংশ অর্থাৎ আট কোটি ৮৩ টাকা।
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক: কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ ব্যাংকটিও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। ঋণ অনুমোদন, ঋণ প্রদানে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে। যদিও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসাইন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক ব্যাংকে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
নতুন নয় ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংকগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এছাড়া নতুন ব্যাংক হিসেবে তাদের কোনো নতুনত্বও নেই। পুরনো ব্যাংকগুলোর মতোই আমানত সংগ্রহ করে ঋণ প্রদান করছে তারা।
‘ব্যাংকগুলো পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা রয়েছে’ অভিযোগ করে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে তেমন যাচাই-বাছাই করছে না এসব ব্যাংক। ফলে নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। তাই নতুন ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি প্রফেসর মো. ইয়াছিন আলী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং বোঝেন কম। আবার অনেক পরিচালক বেনামি ঋণ নিচ্ছেন। নন-রেসিডেন্সিয়াল বাংলাদেশ বা এনআরবি ব্যাংকগুলো বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে। আসলে পুরোটাই ভোগাস। শুধু লাইসেন্স পেতে এ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।

এ রকম আরো খবর

দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

বাংলা পত্রিকা রিপোট: বাংলাদেশের দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকাবিস্তারিত

নাইজেরিয়া-য় বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন

আবুজা (নাইজেরিয়া): নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধুবিস্তারিত

  • নিউইয়র্কে প্রবাসীদের তোপের মুখে ইমরান এইচ সরকার : লাঞ্ছিত
  • বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম আর নেই
  • দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই
  • মানি রেমিটেন্স প্রতিষ্ঠান ‘ফামাক্যাশ’র আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু
  • জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের নিয়ে রাজশাহী নিউজ টুয়েন্টিফোরের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  • আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরতে বললেন দিয়া ও করিমের বাবা-মা
  • সব হিসাবই আরিফের পক্ষে
  • রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্রের মেরামত চলছে : শিশুরাই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে রাজপথ : উই ওয়ান্ট জাস্টিস
  • সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন আর নেই
  • শোকাবহ আগস্ট শুরু
  • মিষ্টি নিয়ে কামরানের বাসায় আরিফ 
  • তিন সিটিতে পুননির্বাচন দাবী করে কর্মসূচি দিলো বিএনপি
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.