র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

প্রবাসীদের ভালবাসার চাদরে সিক্ত হলেন দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: প্রবাসের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ভালবাসার চাদরে সিক্ত করলেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালবাসায় আপ্লুত স্বজ্জনদের সম্মানে আয়োজনটিও ছিল ব্যতিক্রম। রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় দুইজনকে দিকপাল ও অনুকরণীয় অভিধায় আখ্যায়িত করলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। আহ্বান জানালেন তাদের নীতি ও আদর্শে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণের। প্রবাসে সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও কমিউনিটি উন্নয়নের এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক সংবাদ-এর সম্পাদক গজনফর আলী চৌধুরী ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে গত রোববার জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছিল ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. সাদ উজ জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজকদের অন্যতম বিশিষ্ট লেখক ও যুক্তরাষ্ট্র উদীচি শিল্পী গোষ্ঠির সংগঠক সুব্রত বিশ্বাস ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি শাহাব উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্বর্ধিত অতিথিদ্বয়কে ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান ছাড়াও প্রথম আলো’র পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন, মৌলভীবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে উভয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাদেরকে বই উপহার দেন আলোকচিত্রী ওবায়দুল্লাহ মামুন। অপরদিকে গজনফর আলী চৌধুরীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সুব্রত বিশ্বাস এবং মাহবুবুর রহমানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাংবাদিক আবু তাহের।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গজনফর আলী চৌধুরী প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা জানানোর জন্য আয়োজক ও উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি আমার সারাটি জীবনই সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদনের চেষ্টা করেছি। জেল-জুলুম কোন কিছুই আমাকে নিরস্ত্র করতে পারেনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও স্বোচ্চার থেকে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের পক্ষে সংগ্রাম করেছি।
মৌলভী বাজারে কমিউনিস্ট পার্টি করতে গিয়ে আমি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলাম। গৃহহীন হয়েছি। তারপরও প্রগতির সংগ্রাম ছাড়িনি। এক পর্যায়ে লেখাপড়া চালাতে দৈনিক সংবাদে চাকুরী করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, আদর্শের সংগ্রামে সব সময়ই বাধা আসবে। কিন্তু তাতে দমে গেলে চলবে না। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে কাউকে না কাউকে ত্যাগ ও বিসর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। এজন্য আমার জীবনে যা কিছু করেছি তাতে কারো প্রতি আমার কোন ক্ষোভ বা অভিমান নেই। যা সত্য মনে করেছি তার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। এটাই আমার জীবনের সব চাইতে বড় সান্তনা।
তিনি বলেন, আমার শারিরীকি অবস্থা ভাল নেই। চিকিৎসকরা হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন বলছেন এই বয়সে এটা সম্ভব নয়। এজন্য হার্টের বাল্বের উপর আমি নির্ভরশীল। এটা যখনই বন্ধ হয়ে যাবে তখন আমারও হয়তো চলে যেতে হবে। বাকী সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি তার জন্য দোয়া করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের অপর সংবর্ধিত ব্যক্তি, প্রবীণ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমি সাংবাদিকতায় নৈতিকতার শিক্ষা নিয়েছিলাম সিলেটের যুগভেরী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা আমিনুর রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন, একাজে জেল-জুলুম নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সত্যের সাথে আপোষ করা যাবে না। আমি সেখান থেকেই অন্যায়ের সাথে আপোষ না করার শিক্ষা নিয়েছিলাম। তিনি বলেন, প্রবাস জীবনে অনেকের সাথে কাজ করেছি। এটাও আমার জীবনের অভিজ্ঞতাকে আরো পোক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীলতার পক্ষে ছিলাম। আমার মরহুম মা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছিলেন। যার ফলে সারাটি জীবনই এর প্রভাব কাজ করেছে আমি চিন্তা ও চেতনায়।
মাহবুবুর রহমান বলেন, নিউইয়র্কে আসার পর জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র দায়িত্ব দেয়া হলো। সেখানে আমি সিলেটবাসীর স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, সাহিত্য সংস্কৃতি সহ জ্ঞানে বিজ্ঞানে সিলেটিরা এগিয়ে থাকলেও সেলসম্যানশীপের অভাবে সিলেট কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। সিলেটে একদিকে যেমন ছিলেন, হযরত শাহজালাল অন্যদিকে ছিলেন রাধা রমন, সৈয়দ মুজতবা আলী সহ আরো অনেকে। এদের মেধা, সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি শারিরীকভাবে একটু অসুস্থ্য। তারপরও আবার লেখালেখি শুরু করছি। আশা করি নিজের অভিজ্ঞতার কথা সবার সাথে শেয়ার করতে পারবো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই অতিথির জীবনী পড়ে শুনান আলীম উদ্দীন ও ওবায়দুল্লাহ মামুন। সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র ব্যুরো প্রধান ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন বলেন, রোহিঙ্গাদের ন্যায় অনেকেই প্রবাসে ভেসে এসে সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চান। অথচ তারা সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানদের অবদানের কথা মনে রাখেন না। আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেই যেখানে তিনি ছিলেন সেই বাংলা পত্রিকাতে কাজ করেছি। এটা ইতিহাস। এটাকে কোনভাবেই ভুলা যাবে না।
এর আগে গজনফর আলীর জীবনের উপর বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জীবনের চড়াই উৎরাই বাক পরিবর্তনের অনেক ঘটনা ঘঠেছে। কিন্তু গজনফর আলী একই নীতির উপর সারাটি জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। অন্যায়ের কাছে কখনো নতি স্বীকার করেননি তিনি। এটাই হচ্ছে গজনফর আলীর জীবনের শিক্ষা।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা ও নিউজার্সী অঙ্গরাজ্যের প্লেইন্সবরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন্নবী, সাংবাদিক-লেখক শিতাংশু গুহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আব্দুর মোসাব্বির, কমিউনিটি নেতা ফখরুল আলম, সালেহ আহমদ চৌধুরী, সালেহ আহমদ, এমাদ চৌধুরী, নুরে আলম জিকু, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, কাশেম আলী, মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, এডভোকেট নাসির উদ্দীন, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, মিহনাহজ আহমদ সাম্মু, সৈয়দ সিদ্দিকুল হাসান, আনসার হোসেন চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রাফায়েত চৌধুরী, সোহান আহমদ টুটুল প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সাদ উজ জামান চৌধুরী বাংলাদেশী কমিউনিটির এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানণার মাধ্যমে কমিউনিটিতে একটি বিরল দৃষ্ঠান্ত স্থাপনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে এম এম শাহীন বলেন, গজনফর আলী চৌধুরী আর মাহবুবুর রহমান আমাদের কমিউনিটির সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, তারা আমাদের অভিভাবক। আর কমিউনিটির সম্মানিতদের প্রতিভা বিকাশে মিডিয়াগুলোর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে সম্বর্ধিত দুই ব্যক্তিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি-জানি। তারা আদর্শবাদী মানুষ বলেই আমরা সবাই মিলে তাদের সংবর্ধনা দিতে পারছি। তিনি তাদের সুস্থ জীবন ও দীর্ঘায়্যু কামনা করেন।
মুহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, আদর্শের কোন মৃত্যু নেই। গজনফর আলী চৌধুরী আর মাহবুবুর রহমান তাদের মেধা, কর্ম আর যোগ্যতা দিয়ে আমৃত্যু বেঁচে থাকবেন।
ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। তারা সম্মানিত হলে আমরাও সম্মানিত হবো। অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

এ রকম আরো খবর

  • ঢাকা’র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ২৮ সেপ্টেম্বর
  • শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ’র ইনক ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন
  • ‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ
  • অটোয়ায় ৩২তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
  • এনএবিসি কনভেনশন ৩২তম না দশম?
  • বোস্টনে ‘৩২তম’ নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেশন অনুষ্ঠিত
  • হাসান জিলানীর মাতৃবিয়োগ
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে নিউইয়র্কে সমাবেশ
  • বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন : মুখোমুখি দুই প্যানেল : মনোনয়ন ফি বাবদ আয় ৯৪ হাজার ৫০০ ডলার : স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল-সোহেল
  • বিএমএএনএ’র নতুন কমিটি
  • জেএফকেতে গনঅভ্যর্থনার প্রস্তুতি: কমিটি নিয়ে চলছে কানাঘোষা : ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা
  • উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.