র্সবশেষ শিরোনাম

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

নেতাদের সময় জ্ঞানের নমুনা ॥ ‘নয়টার গাড়ী কয়টায় ছাড়বে?’ : ভাঙছে পরিবার, ভাঙছে বন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি: ‘অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা। ঘড়ির কাঁটা ৭টা পেরিয়ে ৮টায় পৌঁছলো। অনুষ্ঠান শুরুর খবর নেই। অনুষ্ঠানস্থলে আয়োজকদের আনাগোনা, হাতে গোনা দর্শক-শ্রোতার উপস্থিত। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর খবর নেই। খোজ নিয়ে জানা গেলো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ‘অন দ্যা ওয়ে’ তিনি আসলেই অনুষ্ঠান শুরু হবে’। অবশেষে প্রধান অতিথি আসলেন, অনুষ্ঠান শুরু হলো। এর মাঝে আড়াই ঘন্টার মতো সময় নষ্ট হয়ে গেলো।
‘আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বিকেল ৫টায়। ঐ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মূলধারার রাজনীতিক। সময়মতো তিনি উপস্থিত, কিন্তু দর্শক-শ্রোতা নেই। বিব্রতকর পরিস্থিতি। আর কি করা। আয়োজকদের ব্যাখ্যা শীতের দিন তাই অনেকে আসতে বিলম্ব করছেন’। অতিথির সাথে আয়োজকদের কথোপকথনের মাঝে চলে গেলো ৩০/৪৫ মিনিট। এই যে সময় অপচয় হলো এর কোন ব্যাখ্যা নেই কারো কাছে।
উল্লেখিত অনুষ্ঠানগুলোর মতো প্রতি সপ্তাহ, মাস আর বছর জুড়ে কমিউনিটিতে এতো সময় নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে যে তার কোন ইয়ত্তা নেই। তাই অনুষ্ঠানগুলোতে অনেকের মতেই প্রশ্ন জাগে ‘নয়টার গাড়ী কয়টায় ছাড়বে’! আর এসময় ঘটনায় বিশেষ করে সময়মত সময়ের মূল্য দিতে না পারায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সহ অনেক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে পারিবারিকভাবে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। নেতৃবৃন্দ পরিবারকে সময় দিতে না পারায় ভাঙছে পরিবার, ভাঙছে পারিবারিক বন্ধন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘টাইম ইজ মানি’র দেশ আমেরিকায় সময়ের অপব্যবহারের ফলে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠান সময় মতো না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন অনেক কমিউনিটি নেতা। একাধিক কমিউনিটি নেতা বিষয়টি এই প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করে বলেছেন, অনেক সময় আমাদের কিছুই করার থাকে না। আবার অনেক সময় আমরা পরিস্থিতির শিকারও হচ্ছি। তারা বলেন, সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে অনেকের কাছে বিষয়টি নেশার মতো হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন অর্থ ব্যয় হচ্ছে অপরদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে। কাজে শেষে সপ্তাহের ছটির দিন উইকেন্ডে পরিবারকে সময় না দিয়ে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। আবার অনেক পরিবারের সদস্য রয়েছেন যারা বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনাগ্রহী তারা একদিকে যেমন তাদের বাবা-মাকে পাচ্ছে না, অপরদিকে তারাও অনুষ্ঠানগুলোতে যেতে না পেরে হতশায় ভুগছে। বিশেষ করে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা বিভিন্ন দেশীয় রাজনীতির সাথে জড়িত তারা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন। তারা ‘না পারছেন বলতে, না পারছেন কইতে, না পারছেন সইতে’ অবস্থা। অনেক অনুষ্ঠানে আয়োজকদের সময় জ্ঞান নিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
উদ্ভুত পরিস্থিতিকে কোন কোন কমিউনিটি নেতাকে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে এদের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। অনেকে পরিবার রয়েছে যাদের কর্তা এক দিকে আর কর্তী আরেক দিকে আবার তাদের সন্তানরা আরেক দিকে। দেখা যাচ্ছে পরিবারের বাবা রাজনীতি সহ সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত, মা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আর সন্তানরা এসবের মধ্যে নেই।
নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলীন, এস্টোরিয়া, ব্রঙ্কস, ওজনপার্ক প্রভৃতি এলাকার অর্ধ শতাধিক হোটেল-রেস্তোরার মালিকদের সাথে আলাপকালে জানা যায় প্রতি সপ্তাহে কমিউনিটিতে গড়ে ২০/২৫টি অনুষ্ঠান হচ্ছে। ৩/৪ বছর আগে বেশীর ভাগ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো উইকেন্ডে অর্থাৎ শনিবার বা রোববার। সম্প্রতিক বছরগুলোতে কমিউনিটির পরিধি বৃদ্ধির ফলে সামাজিক সংগঠনের সংখ্যাও বেড়ে যাওয়ায় এখন সপ্তাহের প্রতিদিনই একটা না একটা অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। উইকেন্ডে ৫/৬টি অনুষ্ঠান আয়োতি হচ্ছে। এরমধ্যে বেশীরভাগ অনুষ্ঠান সময় মতো শুরু ও শেষ হচ্ছে না। ফলে আয়োজক ছাড়াও দর্শক-শ্রোতাদের পাশাপাশি তারাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ৬টার অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে ৮টা, সাড়ে ৮টায়। শেষ হচ্ছে রাত ১১/১২টায়। ফলে সপ্তাহে শত শত ঘন্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য কমিউনিটির বিপা, ড্রামা সার্কেল সহ হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠন সময়মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যা কমিউনিটিতে প্রশংসার দাবী রাখে।
কমিউনিটির সময় জ্ঞান প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিক এই প্রতিনিধিকে বলেন, সময়মতো অনুষ্ঠান শুরু না হওয়ায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনেও অনেক বেগ পেতে হয় এবং কষ্টের শিকার হতে হয়। আবার একই দিন একই সময়ে বিশেষ করে উইকেন্ডে একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হওয়ায় জটিল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই দিক দিয়ে সাংবাদিকদের অনেক সময় অপচয় করতে হয়।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হোটেল-রোস্তোরা ব্যবসায়ী জানান, সময়মতো অনুষ্ঠান না করায় একদিকে যেমন কর্মচারীদের অতিরিক্ত বেতন দিতে হয়, অন্যদিকে বিদ্যুত বিলও বেড়ে যায়। অনেক সময় ২/৩ ঘন্টার জন্য হল ভাড়া করে ৫/৬ ঘন্টা নিয়ে নেন। কমিউনিটির অনুষ্ঠান বলে আমরা ‘না পারি সইতে, না পারি কইতে’।

এ রকম আরো খবর

ঢাকা’র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ২৮ সেপ্টেম্বর

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশন এবং গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখবিস্তারিত

‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক সিটির চলতি শিক্ষা বছরের অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝেবিস্তারিত

  • অটোয়ায় ৩২তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
  • এনএবিসি কনভেনশন ৩২তম না দশম?
  • বোস্টনে ‘৩২তম’ নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেশন অনুষ্ঠিত
  • হাসান জিলানীর মাতৃবিয়োগ
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে নিউইয়র্কে সমাবেশ
  • বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন : মুখোমুখি দুই প্যানেল : মনোনয়ন ফি বাবদ আয় ৯৪ হাজার ৫০০ ডলার : স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল-সোহেল
  • বিএমএএনএ’র নতুন কমিটি
  • জেএফকেতে গনঅভ্যর্থনার প্রস্তুতি: কমিটি নিয়ে চলছে কানাঘোষা : ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা
  • উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • ৪৩ টি মনোনয়নপত্র বিক্রি ॥ দাখিল ২৬ আগষ্ট
  • ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে নর্থ ক্যারোলিনায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • নিউইয়র্কের ডাইভারসিটি প্লাজায় পাল্টা-পাল্টি শ্লোগান
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.