র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

আবেগের জোয়ারে নাড়ীর টান : প্রবাসে লক্ষ কন্ঠে উচ্চারিত হলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি,………’

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস মার্চ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশে-প্রবাসে এ এক অন্য রকম দৃশ্য। একই সময়ে বাংলাদেশের লাখো মানুষের সাথে প্রবাসেরও লাখো মানুষের কন্ঠে উচ্চারিত হলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি,………’। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর-কিশোরী আর বয়োবৃদ্ধ তথা সর্বস্তরের মানুষের মুখে উচ্চারিত হলো বাংলাদের জাতীয় সঙ্গীত।
লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত ‘লাল-সবুজ’ পতকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে সোমবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে ৮টা আর নিউইয়র্ক সময় রাত ১০টায় ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেশ-প্রবাসের লাখো মানুষ আনুষ্ঠাননিকভাবে গাইলেন জাতীয় সঙ্গীতটি। সে এক অপরূপ দৃশ্য, অন্য রকম অনুভূতি। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত আর প্রতিধ্বনিত হলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি,………’।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক ছাড়াও বিশ্বের বিভন্ন দেশের বাংলাদেশ কনস্যুলেট, হাইকমিশন, দূতাবাস বা মিশনের উদ্যোগ, আয়োজন আর ব্যবস্থাপনায় একযোগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশেন উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লাখো বাংলাদেশীর কন্ঠে উঠে আসে জাতীয় সঙ্গীত। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১০টায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। এক সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা আব্দুল মুকিত চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের স্বাগত বক্তব্যের পর জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এরপর কনসাল জেনারেল উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, কবি-সাহিত্যক, সাংবাদিক, শিল্পী-লেখক, এডভোকেট, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইতিহাস বলে: নানা চড়াই-উৎরাইয়ের সাড়ে চার দশক, ১৯৭১-২০১৮। গর্জে উঠার দিন, বছর পেরিয়ে যেন বোবা সময় পার করছে জাতি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের শাসন মেনে আবার এসেছে ২৬ মার্চ। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে জাতি আজ সোমবার মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন করবে। পাকিস্তান সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব ও বহুমাত্রিক শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘকালের সংগ্রাম, আপোসহীন আন্দোলন এবং একাত্তরের নয়মাস সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাঙালী জাতি স্বাধীনতা লাভ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকমহল বলছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে রচনা ও চর্চায় লিপ্ত হয়েছে। বাক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি পরিণত হয়েছে আপেক্ষিক বিষয়ে। গণতন্ত্র নামে আছে, বাস্তবে ‘নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র’। জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে কাঙিক্ষত স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চলমান সংকট উত্তরণের প্রত্যাশা জাতির।
এদিকে, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীর মর্মকথা হলো যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালনের পাশাপাশি দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ডাক। জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে সোমবার সরকারি ছুটি।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং সরকারী ও বেসরকারী বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মুনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, স্বাধিকার আন্দোলনের মুখরতায় টালমাটাল ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখ ছিলো শুক্রবার, পবিত্র জুমাবার। সেদিন সুউচ্চ মিনার থেকে ভেসে আসা মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি, মুক্ত বিহঙ্গের উড়াউড়ি-ডাকাডাকি, নদীর নিঃশব্দে কিংবা কলকল রবে বয়ে চলা, এমনকি শাশ্বত সূর্যোদয়ের মধ্যেও নিহিত ছিলো অন্যরকম দ্যোতনা। কারণ সেদিন এ দেশের নির্বিশেষে মানুষ স্বাধীনতা লাভের অদম্য বাসনা নিয়ে দখলদার পশ্চিম পাকিস্তানীদের সীমাহীন ও অব্যাহত শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন। তাইতো দিনটি আবেগমথিত, মহিমান্বিত ও স্বাতন্ত্রে ভাস্বর। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন আজ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙালী জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালী জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। সাড়ে সাত কোটি মানুষ পেয়েছিলো নিজস্ব মানচিত্র, নিজের মতো করে একটি লাল-সবুজ পতাকা। অযুত জনতার আপোষহীন মনোভাব ও বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বতন্ত্র স্বাধীন জাতিসত্তায় বিশ্ববুকে অধিষ্ঠিত। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল শুধু পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া নয়; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত সাড়ে চার দশকেও এসবের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আজ প্রত্যেকের উপলব্ধির সময় এসেছে ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’।
গোটা জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, ‘জাতির জনক’ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘ঘোষক’ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার। জাতি সেসব অজ্ঞাতনামা বীর শহীদদেরও স্মরণ করবে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেননি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি দেশবাসী জাতীয় স্মৃতিসৌধে জমায়েত হয়ে ফুলেল ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় টাইম টেলিভিশন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস এ উপলক্ষ্যে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ছয়টা ১ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এরপর ছয়টা ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিবাদন জানায়।
পরে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটা ৪৯ মিনিটে এবং রাষ্ট্রপতি পাঁচটা ৫৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধে পৌঁছান।
জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী: ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সোমবার (২৬ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমরা বিজয়ী জাতির উত্তরসূরী। তোমরাই দেশকে গড়ে তুলবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা যেখানে বাংলাদেশকে রেখে যাব, আগামী দিনে সেখান থেকে তোমরাই দেশকে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীসহ সবাইকে আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যাতে কোনমতেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাশক্তিতে আসক্ত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। শিশুরা যাতে মন দিয়ে লেখাপড়া শেখে, মানুষের মতো মানুষ হয়, সেই প্রচেষ্টা অভিভাবকদের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সকল মানুষ উন্নত জীবন পাবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ‘জাতির পিতা’ চেয়েছিলেন, দেশকে উন্নতির শেখরে নিয়ে যাবেন। দুঃখের বিষয় ৭৫এর ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন তখন বিদেশে ছিলাম বলে বলে বেঁচে গেছি। ছয় মাস আমরা রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকি। এরপর ১৯৮১ সালে আমি বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ পাই, তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আসার পর থেকে জনগণের দুঃখ দারিদ্রতা ঘোচানো, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা আর ছোট্ট শিশু-কিশোরদের জন্য একটা উন্নত ভবিষ্যত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে এখনো কাজ করে যাচ্ছি।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে ৫ বছরে দেশের অনেক উন্নতি করেছি। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করি। তখনই ঘোষণা দেই দিন বদলের এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার। আজকে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। বাংলাদেশে দারিদ্রের হার কমেছে। শিশুদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মা (প্রাইমারি স্কুল) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পাচ্ছে। শিশুদের জন্য সমস্ত বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম, কম্পিউটার শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মতো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় বিজ্ঞানী, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মী; অনেক কিছু তোমরা হতে পারবে। তোমাদের ভবিষ্যত যাতে সুন্দর হয়, উজ্জল হয়। আমরা সেই কামনা করি। স্বাধীনতার লক্ষ্যই হচ্ছে, বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।
তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে পেরেছি। কারো কাছে হাত পেতে নয়। কারো কাছে মাথা নত করে নয়। আমরা মর্যাদার সাথে বিশ্বে চলবো। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।
২০২১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো তখন ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে জানান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সন্মুখে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এরপর দলের পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ‘জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

এ রকম আরো খবর

এনাম চৌধুরীর মাতৃবিয়োগ

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক ও নিউজার্সীর বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট সংষ্কৃতিবিস্তারিত

প্রবাস থেকে যারা মনোনয়ন চাচ্ছেন

নিউইয়র্ক: আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একাদশ নির্বাচন। নির্বাচনবিস্তারিত

এম এম শাহীনের বিকল্পধারায় যোগদান

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, বিএনপির সাবেকবিস্তারিত

  • কমিউনিটির পরিচিত মুখ জামান তপনের মাতৃবিয়োগ
  • অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী
  • ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা’য় অগ্রগতির জয়গান
  • মুক্তধারার সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী
  • ব্রঙ্কসের খলিল বিরিয়ানীতে হালাল টার্কির অর্ডার নেয়া হচ্ছে
  • নিউজার্সীর পেটারসনে ‘বাংলাদেশ বুলেবার্ড’ নামে সড়ক হচ্ছে
  • কবীর’স বেকারীর প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর নেই
  • মৌলভীবাজারে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির রাজনীতি বিরাজমান
  • নিউইয়র্ক হামলা : বাংলাদেশী আকায়েদ দোষী সাব্যস্ত
  • নিউইয়র্কের ৯টি সাপ্তাহিকের সম্পাদক/প্রকাশকদের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • ব্রাজিলে জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
  • ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সারাদিন ভোট
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.