র্সবশেষ শিরোনাম

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

সোস্যাল মিডিয়ার আসক্তিতে শিশু-কিশোর থেকে অভিভাবকরাও : বদলে যাচ্ছে লাইফ স্টাইল : বাড়ছে সম্পর্কের দূরত্ব

বিশেষ প্রতিনিধি: জ্ঞান-বিজ্ঞানের বদৌলতে আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে মানুষের জীবন যাত্রা। কোন কোন ক্ষেত্রে আরাম-আয়েসের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে মানুষ। পৃথিবীতে বিজ্ঞানের জয়যাত্রার ফলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা সুযোগ-সুবিধায় যেমন অসাম্য উন্নতি সাধিত হয়েছে, তেমনী কোন কোন ক্ষেত্রে অনিয়ম আর অসাবধানতার ফলে মানুষকে চরম মূল্যও দিতে হচ্ছে। আর এসব সুবিধার মধ্যে সোস্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক অন্যতম। ফেসবুক বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের আসক্তিতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও জড়িয়ে পড়েছে। আর এই আসক্তির ফলে বদলে যাচ্ছে লাইফ স্টাইল, পরিবারগুলোতে বাড়ছে সম্পর্কের দূরত্ব। ফেসবুক আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান সময়। সংশ্লিস্টরা উঠতে-বসতে বা চলার পথে এমনকি বিশ্রামের সময় অর্থাৎ অবসরেও ফেসবুক ব্যবহার করে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সংশ্লিস্টদের মতে ফেসবুক বা মোবাইল ব্যবহারে যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনী এর বিপরীতে চরম অসুবিধাও রয়েছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর আর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে ফেসবুক আসক্তিতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও জড়িয়ে পড়েছে। আর এই আসক্তির ফলে বদলে যাচ্ছে লাইফ স্টাইল, পরিবারগুলোতে বাড়ছে সম্পর্কের দূরত্ব। সূত্র মতে, ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দূরত্ব বাড়ছে স্ত্রীর সাথে স্বামীর আর স্বামী-স্ত্রীর সাথে সন্তানের। দেখা যাচ্ছে বাসায় স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানরা যে যার মতো ব্যস্ত। এরমধ্যে অনেকেই ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বামী কাজ থেকে বাসায় ফিরেছেন, সন্তান ঘুমিয়ে আছে আর স্ত্রী ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত। আবার দেখা যাচ্ছে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত। আবার দেখা যাচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন চলতি পথে গাড়ীতে স্বামী ড্রাইভ করছেন আর স্ত্রী-সন্তারা ফেসবুক নিয়ে বা মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত। চলতি পথে বাসে, সাবওয়ে বা হাঁটা পথেই দেখা যাচ্ছে মোবাইল বা ফেসবুক আসক্তি। এই আসক্তির ফলে অনেক সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে অনেক-কে।
অভিজ্ঞদের মতে অফিস-আদালত, কাজ-কর্মের পরে অবসর সময়ে যেখানে আত্বিক, ব্যক্তিগত আর পারিবারিক সম্পর্ক যেখানে ‘জোরদার’ হওয়ার কথা সেখানে এই সম্পর্কগুলো ‘দূর্বল’ হয়ে যাচ্ছে। আগে পরিবারগুলোতে দেখা গেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রে বসে টিভি দেখে বা গল্প করে অবসর সময় কাটাতে, আর এখর যে যার মতো সময় কাটাচ্ছেন। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী বা বন্ধু-বান্ধবের চেয়ে গভীর সম্পর্ক হয়ে উঠছে মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট। কারো কারো মতে অন্য কিছু না থাকলেও চলবে কিন্তু মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট থাকতে হবে! আবার অভিজ্ঞ মহলের মতে বর্তমান যুগে মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট-এর ‘সদ ব্যবহার’-এর চেয়ে ‘অসদ ব্যবহার’ মোর্দা কথা ‘অপব্যবহার’ই হচ্ছে বেশী। এরমধ্যে আবার ‘ফেক আইডি’র ব্যবহার করে প্রতারণা মতো অনৈতিক কাজ চলছে। আবার অনেকে ‘পর্ণ ছবি’র অংশ বিশেষ আপলোড করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টিও করছে। এসব ইয়ং জেনারেশনের মধ্যেই বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আবার স্মার্ট ফোনের সুবাধে যা-তা ছবি তোলে ফেসবুকে আপলোড করে যেমন ফেসবুকের অপব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরও বিরাগভাজন হলেও অনেকেই এসব ‘কেয়ার’ করছেন না। উঠতে-বসতে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, হাটতে-ফিরতে, পোষাক-পরিচ্ছদে এমনকি ঠুনকো কোন বিষয়কেও ফেসবুকে স্থান করে দেয়া হচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে একই ভঙ্গির একাধিক ছবি আপলোড করা হচ্ছে, যার কোন অর্থ নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে বসবাসকারী এক শ্রেনীর ইয়ং ছেলেমেয়ে ফেক আইডি ব্যবহার করে ছেলেরা মেয়ের অভিনয় আর মেয়েরা ছেলের অভিনয় করে অনেকের সাথে প্রতারণা করছেন। কেউ কেউ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে নানাভাবে অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন। কেউ বলছেন, লেখাপড়ার জন্য অর্থ দরকার, কেউ বলছেন, চিকিৎসার জন্য অর্থ দরকার। আবার কেউ কেউ বিনোদনের জন্য নানাভাবে অর্থ আদায় করছেন। আর এসব কৌশলে ফোন নম্বর ব্যবহার করে বলা হচ্ছে ‘এই নম্বরে’ বিকাশ করো। অথচ ঐ নম্বরে ফোন করলে ফোন পিকআপ করা হচ্ছে না, কোন সাড়াশব্দও পাওয়া যাচ্ছে না। মোট কথা এসবই প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।
আরো অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্কুল থেকে ছেলে-মেয়েদের আসার সময় হয়েছে। অথচ মা বাসায় ফেসবুক আসক্তিতে পড়ে বাচ্চাকে স্কুল বাস বা স্কুল থেকে পিক করতেই ভুলে গেছে। পরবর্তীতে বাচ্চা ফেরৎ গেছে স্কুলে বা নিরাপত্তা সদস্যদ্যের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এমন অবস্থায় ‘মুচলেকা’ দিয়ে সন্তানদের স্কুল বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।
এদিকে ছোট ছোট শিশু-কিশোররা মোবাইল আসক্তির কারণে চোখের সমস্যায় ভুগছে। ফলে অল্প বয়সেই তাদের প্লাস বা মাইনাস পাওয়ারের সানগ্লাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এনিয়ে অভিবাবক মহল চিন্তিত।
যে কোন আসক্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে যথাযথ সতর্কতা ও শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন জোরদার আর ধর্মীয় অনুশীলন প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ মহল সহ সমাজ বিজ্ঞানীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এ রকম আরো খবর

‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক সিটির চলতি শিক্ষা বছরের অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝেবিস্তারিত

অটোয়ায় ৩২তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): কানাডার রাজধানী অটোয়ায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ৩২তমবিস্তারিত

  • এনএবিসি কনভেনশন ৩২তম না দশম?
  • বোস্টনে ‘৩২তম’ নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেশন অনুষ্ঠিত
  • হাসান জিলানীর মাতৃবিয়োগ
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে নিউইয়র্কে সমাবেশ
  • বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন : মুখোমুখি দুই প্যানেল : মনোনয়ন ফি বাবদ আয় ৯৪ হাজার ৫০০ ডলার : স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল-সোহেল
  • বিএমএএনএ’র নতুন কমিটি
  • জেএফকেতে গনঅভ্যর্থনার প্রস্তুতি: কমিটি নিয়ে চলছে কানাঘোষা : ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা
  • উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • ৪৩ টি মনোনয়নপত্র বিক্রি ॥ দাখিল ২৬ আগষ্ট
  • ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে নর্থ ক্যারোলিনায় পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত
  • নিউইয়র্কের ডাইভারসিটি প্লাজায় পাল্টা-পাল্টি শ্লোগান
  • নোয়াখালী সোসাইটি থেকে সভাপতি রব মিয়ার পদত্যাগ
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.