র্সবশেষ শিরোনাম

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলীতে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলী হাউসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ সপ্তমবারের মতো ‘বাংলাদেশ ডে’ হিসেবে উদযাপিত হয়েছে। গত ২৭ মার্চ মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী ও স্টেট সিনেটে বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা দিবসের ওপর পৃথকভাবে রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভেদা ও স্টেট সিনেটর জামাল টি. বেইলী স্টেট অ্যাসেম্বলী ও সিনেট হাউজে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলী অধিবেশনের রেজুলেশন দু’টিতে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। সিনেট এবং অ্যাসেম্বলী গ্যালারী এদিন পুরোটাই সংরক্ষিত ছিল শুধু বাংলাদেশীদের জন্য। ব্রঙ্কসের বাংলাদেশী কমিউনিটির এ আয়োজনে শতাধিক বাংলাদেশী অংশ নেন।
অ্যাসেম্বলী হাউজের অধিবেশন চলাকালে ‘বাংলাদেশ ডে’র প্রস্তাবনাটি প্রথমে গৃহীত হয়। এদিন স্থানীয় সময় বেলা ১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও বাইবেল থেকে পাঠের মাধ্যমে অ্যাসেম্বলী অধিবেশন শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল। অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ ডে’ প্রস্তাবনাটি পাঠ করে শুনানো হয়। এতে বলা হয়, তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকার বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালিয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয় ৩০ লাখ মানুষ। সম্ভ্রমহানী হয় ২ লাখ মা-বোনের। রেজুলেশনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাঁদেরকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। এর সমর্থনে বেশ ক’জন অ্যাসেম্বলীম্যান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন গ্রহণকালে অ্যাসেম্বলী ফ্লোরে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, লেখক-বিজ্ঞানী ও সিটি কাউন্সিল মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরান নবী, কমিউনিটি লীডার এডভোকেট নাসির উদ্দিন, নজরুল হক, আবদুল মুসাব্বির, মো. শামীম মিয়া, এ ইসলাম মামুন, আহবাব হোসেন চৌধুরী, জামাল হোসেন ও কামাল উদ্দিন। এসময় অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা হাউজ কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন।
এদিন বিকেল ৪টায় স্টেট সিনেটের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডে’র রেজুলেশন গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল। এরপর সিনেটর জামাল টি বেইলি উত্থাপিত বাংলাদেশ ডে প্রস্তাবনাটি পাঠ করে শুনানোর পর ৫ জন সিনেটর প্রস্তাবটির সমর্থনে জোরালে বক্তব্য রাখেন। এখানেও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়। পরে সিনেট হাউজে রেজুলেশনটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
সিনেটে বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন উপস্থাপনকালে সিনেট ফ্লোরে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিটির মুখপাত্র আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, লেখক-বিজ্ঞানী ও সিটি কাউন্সিল মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরান নবী, কমিউনিটি লীডার সোলেমান আলী ও মাহবুব আলম। হাউজ কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
এদিকে স্টেট অ্যাসেম্বলী হাউজ ও সিনেট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলি ও অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা আলবেনী হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মানে এক অভ্যর্থনা পার্টির আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডে কমিটির কাছে অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা ও সিনেটর জামাল টি বেইলি হাউজ দু’টিতে পাসকৃত রেজুলেশনের কপি হস্তান্তর করেন। এছাড়াও এসময় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ডে কমিটিকে প্রক্লেমেশন প্রদান করা হয়।
‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং কমিটির মুখপাত্র আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলি ও অ্যাসেম্বেলীম্যান লুইস সিপুলভেদা ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বেশ কয়েকজন স্টেট সিনেটর ও অ্যাসেম্বেলীম্যান। তারা তাদের বক্তব্যে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূয়শী প্রশংসা করেন। তুলে ধরেন নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদানের কথাও।
ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ ডে’ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভেদা ও স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
প্রক্লেমেশন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন: ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, বাফা প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, কমিউনিটি লীডার আবদুস সহীদ, ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি মেম্বার সেক্রেটারী শাহেদ আহমদ, মামুন’স টিউটরিয়ালের প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, কমিউনিটি লীডার মোহাম্মদ দলা মিয়া, আল আসকা রেষ্টুরেন্ট ও আল আসকা গ্রোসারীর স্বত্তাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হক শাহীন, খলিল বিরিয়ানী হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ খলিলুর রহমান এবং কমিউনিটি লীডার রেক্সোনা মজুমদার।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় ব্রঙ্কস থেকে দু’টি বাসযোগে প্রায় ১২০ জন বাংলাদেশী ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিতে আলবেনীতে সমবেত হন। বিকেল সাড়ে ৫টায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবার পরিবেশন করে ব্রঙ্কসের বিখ্যাত খলিল বিরিয়ানী হাউজ।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ ডে’ দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য গত ১২ মার্চ গঠন করা হয় ১৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি। কমিটির সদস্যরা হলেন: চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, মেম্বার সেক্রেটারী শাহেদ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ মনজুর চৌধুরী জগলুল, সহ কোষাধ্যক্ষ শামীম আহমেদ, সদস্য মোহাম্মদ এন মজুমদার, আবদুস শহীদ, মাহবুবুল আলম, শামীম মিয়া, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, আহবাব চৌধুরী, তৌফিকুর রহমান ফারুক, এ ইসলাম মামুন, ফরিদা ইয়াসমিন, রেক্সোনা মজুমদার এবং বুরহান উদ্দিন। অন্যতম সদস্য আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার এ কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ডে অনুষ্ঠানের ব্যানারে ‘বাংলাদেশের মানচিত্র ভুল’, ‘বাংলাদেশ ডে’ স্থলে বেঙ্গলী ডে’ এবং বাংলাদেশ ডে’র রেজুলেশনে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামের স্থলে ‘বঙ্গুবন্ধু’ লিখা হওয়ায় এনিয়ে কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। স্টে কর্মকর্তাদের ভুলে এই ভুল হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানিয়ে এজন্য ভুল শিকার করে ক্ষমা প্রর্থণা এবং আগাীতে এমন ভুল হবে না বলে জানানো হয়েছে।

এ রকম আরো খবর

  • ভেরাইশপ নামে নতুন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান : অ্যামাজনের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের ইমরান
  • নিউইয়র্কে একুশ পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি
  • ১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী স্মরণে সভা ২২ ফেব্রুয়ারী
  • রিদম আয়োজিত ‘ভালোবাসার রেশ’ অনুষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারী
  • অমুসলিম হয়েও ধর্মবিদ্বেষের শিকার বাংলাদেশী বরুন চক্রবর্তী
  • বাংলা পত্রিকা ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ সংখ্যা
  • সিলেটে কুহিনুর আহমদকে গ্রেফতারের নিন্দা ও মুক্তি দাবী
  • ক্ষমতা নিয়ে ইসি-ট্রাষ্টি বোর্ডের মধ্যে টাগ অব ওয়ার
  • মডেলিং সহজ কাজ নয়, চাই আতœবিশ্বাস
  • নারী আসনে মনোনয়ন চান মোমতাজ-ফরিদা
  • ‘বিএনপি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার
  • নতুন ভবণ ও ফিউনারেল হোমন প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.