র্সবশেষ শিরোনাম

রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

বিপিএল ইউএসএ টি-২০ টুর্নামেন্ট-২০১৮

টাইম টেলিভিশনে সম্প্রচার এবং আমার চ্যালেঞ্জ

সামিউল ইসলাম: শনিবার, ৬ অক্টোবার ছিল আমার জন্য বেশ চ্যলেঞ্জিং একটা দিন। চ্যালেঞ্জ নিতে বরাবরই ভাল লাগে এবং এটা একটা নেশার মত আমার কাছে। চ্যালেঞ্জ নেয়ার আগে সাত পাঁচ ভাবি না। কিছু একটা হবে ভেবে ঝাপিয়ে পড়ি। গতকালের চ্যালেঞ্জটা ছিল পুরোটাই অনেক বেশী সাহসের। প্রথমবারের মত নিউইয়র্কে বিপিএল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেটার মিডিয়া পার্টনার টাইম টেলিভিশন। শনিবার মোট ৪টি ভেন্যুতে সকাল-বিকাল মিলে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। অনেকগুলো ম্যাচ। এর মধ্যে কিছু ম্যাচ সরাসরি টিভিতে দেখাতে হবে। চ্যালেঞ্জটা এখানেই। কারণ এখানে নিমবাজ বা এরকম কোন কোম্পানীকে এই লোকাল বিপিএল এর টেলিকাস্ট এর দায়িত্ব দেয়ার সুযোগ নেই কারণ হল আর্থিক অবস্থা। ছোট পরিসরে বিপিএল শুরু হচ্ছে নিউইয়র্কের মাটিতে। যেই নিউইয়র্কের প্রায় ৭০ ভাগ বাংলাদেশী জানেই না ক্রিকেট সম্পর্কে। খেলার ২ দিন আগে একটি স্পন্সর ঠিক হল। এখন ২ দিনের মাঝে লাইভ খেলা দেখানোর সেটাপ রেডি করা প্রায় অসম্ভব। তার উপর আমাদের এই ধরনের ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতা কারোরই নাই। কোন যন্ত্রপাতিও নাই। আমাদের দৌড় ঐ বড়জোড় কোন পথ মেলা কিংবা কোন অ্য্যাওয়ার্ড বা কনসার্ট লাইভ করা। সেখানে একটা পুরো ক্রিকেট ম্যাচ কিভাবে লাইভ করব? শুধু লাইভ করলেই তো হবে না, বিটিভির জমানায় আমরা যখন খেলা দেখতাম তখন মাঝে মাঝে উপরে ডানে একটু স্কোর দেখলেই খুশীতে গদগদ হয়ে যেতাম। আর এখন মডার্ণ টেকনলজির যুগে এক একটা ক্রিকেট ম্যাচ আমরা কতটা নিখুঁত এবং স্বাচ্ছন্দে দেখি। মাঠের থেকে আমার টিভিতেই খেলা দেখতে ভাল লাগে কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য আমি টিভিতে পেয়ে যাই।
সে যাই হোক মানুষ এত কিছু বুঝতে চাইবে না। তারা কম্পেয়ার করবে ঐ আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর সাথেই। আর চ্যালেঞ্জটা সেখানেই। যেখানে ক্রিকেটে অন্তত ১৮টা ক্যামেরা ব্যবহার হয় (মিনিমাম) সেখানে আমার আছে মাত্র ৪টি ক্যামেরা তাও ইএনজি ক্যামেরা। এটার জুম আর কতটাই বা করা যায়। এর উপর প্রফেশনাল ক্যামেরা পার্সন একজনও নাই। এর উপর এখানের মাঠে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাও নাই। আগে থেকে মাঠটা ভিজিট করার ব্যবস্থাও নাই কারণ সময় কোথায়? ২ দিন এর মাথায় এরেঞ্জ করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া মাঠের আয়তন বড় হওয়ার কথা। আমার ক্যামেরা থেকে ভিডিও সুইচারে ক্যাবল টানার জন্য লম্বা ক্যাবলও দরকার। এত লম্বা ক্যাবলও আমাদের নেই। এর উপর ব্রডকাস্ট টিমে নেই দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি। খেলাটা দেখালেই তো হবে না, সেই সাথে স্কোর দেখাতে হবে এবং রিপ্লেটাও। এটা আরো ভিশন চ্যালেঞ্জিং। এখানে কোন অটোমেটেড সিস্টেম আমাদের ছিলো না। কি করা যায় সেটাই ভাবছিলাম। তখন নিজের উদ্ভাবিত একটা মেথড দ্বারা করালাম। তার জন্য সুযোগ পেলাম মাত্র কয়েক ঘন্টা। আগে থেকে ঐ সিস্টেমে কাজও করিনি। কিন্তু আইডিয়া ছিল ওভাবে করলে হয়ত হবে। খেলার আগের দিন রাতে কিছু স্ক্রিন শট দেখলাম কেমন হয় স্কোর। সেখান থেকে আইডিয়া নিয়ে নিজেই নেমে পড়লাম স্কোর ডিজাইনে। কাাঁচা হাতের ডিজাইন করে কিছু একটা দাঁড়া করিয়ে ফেললাম। সেটার টেস্টও অফিসে বসে করলাম। মোটামুটি মানের হয়েছে। কিন্তু সব কিছু ম্যানুয়ালী করতে হবে।
এর পর আসলো, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। খেলার দিন গিয়ে দেখি মাঠটা সমতল না। ক্রিজের জায়গা থেকে বাউন্ডারীর জায়গা পর্যন্ত কিছুটা ঢালু। এবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল তাহলে উপায়? ক্যামেরা কই সেট করব? উপর থেকে ক্যামেরা না ধরলে তো মনে হবে কিছু লোক দৌড়াদৌড়ি করছে আর কিছুই বোঝা যাবে না। পরে টেবিল ম্যানেজ করে তার উপর ক্যামেরা দাঁড়া করিয়ে দিয়ে ৩ ক্যামেরায় ৩ জনকে দাঁড়া করিয়ে দিলাম। এর মধ্যে একজন শুধু ক্রিকেট বুঝে। বাকি ২ জনকে ইন্সট্রাকশান দেয়ার সময়ও পেলাম না। কোন মতে তাদের দাঁড় করিয়ে দিয়ে সব সেট করে ফেললাম। ভিডিও সুইচারে যাকে বসালাম সে বোধহয় এটাই প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ দেখল। আমি বসে গেলাম স্কোরিং এবং বাকি সব দ্বায়িত্বে। ব্যাস এই ৫ জনের টিম দিয়েই করে ফেললাম বিপিএল অব ইউএসএ লাইভ। আমার চেষ্টা ছিল দর্শকরা যেন ভালভাবে খেলাটা দেখতে পারে। বল বাই বল স্কোর যেন পায়। কিন্তু অনেক সময় সেটা সম্ভব হয়নি কারণ আমাকে স্কোর আপডেট জানানোর মত লোকও ছিল না। ধারাভাষ্য শুনে শুনে আপডেট করেছি। নিজে মাঠে থেকেও খেলা দেখতে পারিনি। কারণ খেলা দেখার চেয়ে দর্শকদের খেলা দেখানোই ছিল আমার দ্বায়িত্ব। দর্শকদের জন্য চেষ্টা করেছি তারা যেভাবে অভ্যস্ত খেলা দেখে সেভাবে না পারলেও কাছাকাছি কিছু একটা দিতে। জানিনা কতটা পেরেছি তবে যা চেয়েছি তার ৫০ ভাগ আমি করতে পেরেছি তাতেই খুশী।
সামনে আরো দুটো ম্যাচ লাইভ করার কথা রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমি ফাইনাল। আশা করছি সেই ম্যাচগুলো আরো ভালোভাবে দর্শকরা দেখতে পারবে এবং চেষ্টা করব মাঠের শব্দটাও তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। সেই সাতে রিপ্লে সিস্টেমটাকেও আরেকটু ঘষামাঝা করে আরো সুন্দর যতটা করা যায়।
চ্যালেঞ্জটা আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। জানিনা কতটা সফল হয়েছি, সেটা দর্শকই ভাল বলতে পারবে। তবে আমি ১০০ ভাগেরও বেশী চেষ্টা করেছি। হয়ত আমার জীবনে উল্লেখ করার মত এটা একটা ঘটনা হয়ে থাকবে। হয়ত এটাই আমার ব্রডকাস্ট লাইফে শেষ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। তবে চ্যালেঞ্জটির সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ টাইম েিটলিভিশন-এর সিইও জনাব আবু তাহের-কে। আমার উপর বিশ্বাসটি রাখার জন্য। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই আমার সাথে যারা কাজ করেছেন এবং সার্বক্ষনিক সহযোগিতো দিয়েছেন। টাইম টেলিভিশন-এর অন্যতম পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু ও বিশেষ প্রতিনিধি সাজিদ হক-এর সার্বিক সহযোগিতায় ক্রুদের মধ্যে আরো ছিলেন নাজিম উদ্দিন, নিপা রইস, আনিকা, মিহির ও অধরা।

এ রকম আরো খবর

সিলেট সুলতান্স’র শিরোপা জয় ॥ ঢাকা স্বরপিয়ন্স রানার্স আপ

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট: নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত উৎসব গ্রুপ বাংলাদেশীবিস্তারিত

  • নিউইয়র্কে উৎসব গ্রুপ বিপিএল ইউএসএ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু ॥ লাইভ সম্প্রচারে টাইম টেলিভিশন-এর চমক ॥ ভূয়শী প্রশংসা বিশ্বব্যাপী : ক্রিকেটে কমিউনিটিতে নতুন দিগন্ত
  • নিউইয়র্কে বিপিএল ইউএসএ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু ৬ অক্টোবর
  • নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিপিএল ইউএসএ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট
  • অপরাজিত চ্যাম্পিয়ান সোনার বাংলা ॥ আইসাব রানার্স আপ
  • ক্রিকেটে বিশ্বকাপ অর্জন করতে হলে ভালো খেলা ধরে রাখতে হবে
  • ফ্লোরিডায় বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়
  • অপরাজিত চ্যাম্পিয়ানের পথে সোনার বাংলা ॥ আইসাব ও যুব সংঘের পয়েন্ট ভাগাভাগি
  • আইসাব ও সোনার বাংলা’র জয়লাভ  : যুব সংঘ ও ব্রাদার্স এলায়েন্স’র পয়েন্ট ভাগাভাগী
  • সোনার বাংলা, ব্রঙ্কস ইউনাইটেড, ব্রাদার্সের পূর্ণ পয়েন্ট লাভ : তৌহিদের হ্যাট্রিক
  • ৪-২ গোলে হেরে ক্রোয়েশিয়া রানার্স আপ : বৃষ্টি বর্ষণে পুরষ্কার বিতরণ : বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্সই চ্যাম্পিয়ন
  • মেসি কিংবদন্তি খেলোয়াড় : ফিফা প্রেসিডেন্ট
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.