র্সবশেষ শিরোনাম

রবিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৭

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

এফবিআইকে হিলারির চ্যালেঞ্জ: নিউ ইয়র্কে মুসলিম-আমেরিকান র‌্যালি: কেমন হতে পারে ট্রাম্পের আমেরিকা

মার্কিন নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন মুসলিমরা

বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।- যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। এবারই প্রথম মুসলমানরা একটি গ্রুপ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মনে করেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল ইকোনমি বিভাগের অধ্যাপক শারিন হেলোরান । গত বুধবার নিউ ইয়র্কস্থ ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি।
এদিকে মুসলিম ভোটাররা সুইং স্টেইট তথা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে জয় পরাজয়ে ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন এমন খবর বেরিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা, এনবিসি নিউজ, ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নালসহ আরো বেশ কয়েকটি শক্তিশালী গণমাধ্যমে।
বুধবার ফরেন প্রেস সেন্টার আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান , আপনি নিশ্চয়ই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য সম্পর্কে অবগত আছেন। এমনি বাস্তবতায় মুসলিম ভোটারদের ক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টি ভঙ্গি কি। বিশেষ করে মুসলিম ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে এবং এ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে।
জবাবে অধ্যাপক শারিন বলেন, মুসলিম ভোটাররা এর আগে কখনো ব্লক ভোট হিসেবে উপস্থাপিত হননি। তাদেরকে কখনো বিবেচনা করা হতো এশিয়ান হিসেবে । কখনোবা অন্য কোন অঞ্চলের ভোটার হিসেবে । যারা বেশিরভাগই বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করতো। মুসলিম ভোটারদের বিষয়টি হিসপানিক কিংবা কালো বর্ণের ভোটারদের মতো নয়। আর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ভোটারদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করাও কঠিন। কিন্তু এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে এধারণাটির পরিবর্তন হয়েছে। এটি হয়েছে এজন্য নয় যে ব্যবসায়িক চুক্তি, শিক্ষানীতি কিংবা কর হ্রাস এসংক্রান্ত কারণে। বরং এ পরিবর্তনটি হয়েছে প্রতিদ্ধন্ধি প্রার্থী (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এবং প্রতিদ্ধন্ধী প্রার্থীর ব্যাক্তিত্বের কারণে। আমি মনে করি পুরো দেশে না হলেও কিছু কিছু নির্বাচনী এলাকায় এ মুসলিম ভোটাররা জয় পরাজয়ে দারুণভাবে ভূমিকা রাখবেন।
উল্লেখ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশাধিকার বন্ধ করবেন ঘোষণা দেবার পর পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে মুসলিমদের উপর হামলা বৃদ্ধিসহ বাড়তে থাকে নানা ধরণের ঘটনা। এমনি বাস্তবতায় ইউএস কাউন্সিল অন মুসলিম অর্গানাইজেশন পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ১০ লাখ ভোটার নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়। যাতে সংগঠনটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম হয়। মুসলিম ভোটার রেজিষ্ট্রেশনের কাজ করেছেন বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাহানা মাসুম।
তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী বক্তব্য শুনার পর মুসলিম ভোটাররা আগের চেয়ে অধিক সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদগুলো ভোটার উদ্ধুদ্ধ করতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ভোটার রেজিষ্ট্রেশন করেই মুসলিম কমিউনিটির নেতারা ক্ষান্ত হননি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছেন মুসলিম কমিউনিটির নেতারা। বাংলাদেশি আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূইয়া জানান , শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয় মুসলিম কমিউনিটির স্বার্থে যেসব সিনেট ও কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কাজ করছেন তাদেরকে জিতিয়ে আনতে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফোন ব্যাংকিং করে যাচ্ছি আমরা।
নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয় পরাজয় নিশ্চিত হয় এমন অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায়ও মুসলিম কমিউনিটির নেতারা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির নেতারা বিভিন্ন ব্যানারে কেউবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম এক্টিভিস্ট ব্যারিষ্টার মনির হোসাইন কাজল তাঁর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে ভোট ব্যাংকিং খুলেছেন ।
ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন অনুসারে সারা দেশে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি। তবে কাউন্সিল অন ইসলামিক রিলেসন (কেয়ার) এর তথ্য মতে রেজিষ্ট্রার ভোটারের সংখ্যা ৮০ লাখের উপরে। মোট ভোটারের তুলনায় এটি নিতান্ত কম অংশ হলেও এবারের নির্বাচনে যেসব অঙ্গরাজ্যগুলোর ফলাফল আগের থেকে আঁচ করা যায় না সেসব এলাকায় মুসলিম ভোটারা ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন বলে মনে করে এ সংবাদ মাধ্যম।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ভাষ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের ২ শতাংশের বেশি নয়। কিন্তু এসব ভোটারদের বেশিরভাগই ফ্লোরিডা , ওহাইও ,ভার্জিনিয়ার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জন এসপোসিটো মনে করেন , যখন ভোট শেষ হয়ে যাবে তখন দেখা যাবে এসব এলাকার ভোটাররা নির্বাচনের জয় পরাজয়ে খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। যদিও তারা কমিউনিটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
কাউন্সিল অন আমেরিকান রিলেশন (কেয়ারের) তথ্যানুযায়ী , যুক্তরাষ্ট্রের তিনভাগের দুইভাগ ভোটারই ডেমোক্র্যাট সমর্থক । আর রিপাবলিকান সমর্থক ভোটারদের মাত্র ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ লোক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিবে। সুতরাং এতোসব পরিসংখ্যান ও জরিপ গবেষনা বিশ্লেষনে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মুসলিম ভোটারের বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দারুণভাবে উপস্থাপিত হবে।

muslims-for-hillary-7হিলারিকে জয়ী করতে মুসলিম আমেরিকান র‌্যালি
হিলারিকে জয়ী করতে মুসলিম আমেরিকানদের ঐক্য আমেরিকার ৩০টি অঙ্গরাজ্যের মুসলিম নেতৃবৃন্দ সম্মিলিত আওয়াজ তুললেন প্রেসিডেন্ট পদে হিলারি ক্লিনটনকে বিজয়ী করার। শ্লেগান দিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কল্যাণে হিলারির বিকল্প নেই। বিশ্ব শান্তির স্বার্থেই হিলারিকে প্রেসিডেন্ট চাই’।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ তথা ‘অ্যামপেক’র ব্যানারে হিলারি ক্লিন্টনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নারীসহ নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের ঘটনাটি সকলের দৃষ্টি কাড়ে।
এ সমাবেশে বক্তব্যকালে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রসপেক্ট পার্ক সিটির মেয়র মোহাম্মদ তাহের খায়রুল্লাহ বলেন, ‘মুসলিম আমেরিকানরা আজ ঐক্যবদ্ধ। ৩৩ লাখ ভোট রয়েছে আমাদের। এই ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত জাতি ও ধর্ম বিদ্বেষীদের ধরাশায়ী করতে হবে।’
ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এশিয়ান-আমেরিকান ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন মুসলিম-আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ হবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নেই সকলকে ভোট দিতে হবে হিলারিকে।’
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাহী সংস্থার প্রতিনিধি তালাত খান বলেন, ‘ট্রাম্প শুধু মুসলমানদেরই শত্রু নন, তিনি হিসপ্যানিক, আফ্রিকান এবং ইমিগ্র্যান্টদের শত্রু। নারীর প্রতিও তার বিদ্বেষ রয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে হিলারিকে বিজয়ী করে ট্রাম্পকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।’
ফ্লোরিডার আমেরিকান মুসলিম ডেমোক্রেটিক ককাসের প্রেসিডেন্ট গাজালা সালাম বলেন, ‘এখন সময় হচ্ছে নিজেদের ভোট ব্যাংককে সংহত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অংশ হবার। ব্যালট যুদ্ধে মুসলিম-আমেরিকানদের অস্তিত্বের জানান দিতে হবে।’
আইওয়া অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য আব্দুল সামাদ বলেন, ‘আমরাও আমেরিকান এবং আমাদেরও ভোটিং পাওয়ার আছে, সেটি ট্রাম্পের মত উদ্ভট মস্তিষ্কের লোকজনকে জানিয়ে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠির মানুষের নিরাপদ আস্থানা- এ সত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারিকে বিশাল বিজয় দিতে হবে।’
ক্যানসাস অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা রেহান রেজা বলেন, ‘ফ্লোরিডা, পেনসিলভেনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, আইওয়া, নিউজার্সির মত রাজ্যে মুসলিম ভোটারকে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে হবে হিলারিকে। একইসাথে যেখানেই মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থী রয়েছেন, সেখানেই সংঘবদ্ধ শক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে।’
ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ খন্দকার বলেন, ‘সময়ের দাবি হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐক্য। কারণ, হিলারি ক্লিনটন হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ তথা ইমিগ্র্যান্টদের বন্ধু। তাকে জয়ী করার মধ্যদিয়েই বিশ্ব শান্তির পরিক্রমা এগিয়ে নিতে হবে।’
মুসলিম-আমেরিকান সংগঠক গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সকল মানুষের অধিকার সংহত করেছে। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের নিষিদ্ধ করবেন। তাই তাকে ব্যালট যুদ্ধে এহেন বেসামাল কথাবার্তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’
ডেমোক্র্যাট এন মজুমদার বলেন, ‘সারা আমেরিকার মুসলমানরা আজ ঐক্যবদ্ধ। একইভাবে আফ্রিকান-আমেরিকান, হিসপ্যানিকরাও ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলেছেন হিলারির পক্ষে। আমরা অবশ্যই জয়ী হবো।’
নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, লেবার নেতা এসালের প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিসবাহ উদ্দীন, নার্গিস আহমেদ, মাজেদা উদ্দীন, জাকারিয়া মাসুদ জিকো, রফিকুল ইসলাম ডালিম, মাজেদা উদ্দিন, আনিস আহমেদ, সোলায়মান আলী প্রমুখ। সকলের হাতে ছিল হিলারিকে ভোটদানের পোস্টার ও প্লেকার্ড।

muslims-for-hillary-9অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুসলিম কমিউনিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ভারসাম্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটি হিলারীকে সমর্থন করছেন। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ন ও ধর্মবিদ্বেষী বিভিন্ন বক্তব্য ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি চরম আতংক ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকানদের মধ্যে বিদ্বেস ও ঘৃনার রাজনীতিকে পূঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন। অপরদিকে হিলারী ক্লিনটন বিভক্তির রাজনীতির পরিবর্তে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দিয়েছেন। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই হিলারীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ। এজন্য আমরা মুসলিম কমিউনিটি হিলারীকে সমর্থন দেয়ার জন্য মুসলিম কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
জ্যাকসন হাইটসের এই র‌্যালিতে আরো বক্তব্য রাখেন, স্যাম খান, নিউ ইয়র্কের আবু জাফর মাহমুদ,ডঃ নাহিদ খান, মিনা ইসলাম, আব্দুস সহিদ, রেক্সোনা মজুমদার, গিয়াস আহমেদ প্রমুখ।
এর বাইরে হিলারীর ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে উপরোল্লিখিত মুসলিম নেতারা টাইম টেলিভিশনে বিশেষ টক শো’র আয়োজন করেন। টাইম টেলিভিশন তাদের এই টকশো গত শনি ও রোববার সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

এফবিআইকে হিলারির চ্যালেঞ্জ
গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস বি কমির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন হিলারি ক্লিনটন। এ সময় তিনি কমি’কে ‘ডিপলি ট্রাবলিং’ বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, হিলারির ইমেইল তদন্ত নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে। নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এ সময়ে এফবিআইয়ের মতো একটি সরকারি সংস্থার ইমেইল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিয়ে ডেমোক্রেট শিবিরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হিলারি ক্লিনটন ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচ-এ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি এ সময় বলেন, আপনাদের কেউ কেউ হয়তো শুনে থাকবেন এফবিআইয়ের পরিচালক শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, এই সংস্থাটি আবার ইমেইল পর্যালোচনা করছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এ রকম সামান্য তথ্য প্রচার করা এক আজব ব্যাপার। এটা এক অ™ভুত ব্যাপারই নয় এটা অপ্রত্যাশিত। এটা গভীর বিরক্তিকর। কারণ, ভোটাররা পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ সত্যটি জানতে চায়। এ সময় তিনি জেমস কমি’কে এ বিষয়ে পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানান। হিলারির সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন অনুসারী ডেমোক্রেটরা। তারাও জেমস কমির ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদেরও দাবি, বিতর্কিত নতুন এই ইমেইলের বিস্তারিত প্রকাশ করতে। এ বিষয়ে জেমস কমি ও যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল লোরেটা লিঞ্চের কাছে আগামীকাল সোমবারের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সিনেটর। তারা হলেন ডেমোক্রেট দলের সবচেয়ে বেশি সময় সিনেটর হিসেবে দায়িত্বপালনকারী প্যাট্রিক লেহি, ডায়ানে ফেইনস্টেইন, টমাস কারপার ও বেঞ্জামিন কার্ডিন। এখানেই শেষ নয়। ওহাইওর কলাম্বাসে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কংগ্রেসনাল ব্লাক ককাস। এতে রয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যও। তারাও এফবিআই পরিচালক জেমস কমির কাছে ইমেইল ইস্যুতে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

কেমন হতে পারে ট্রাম্পের আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে হাইস্কুল একসঙ্গে পড়া আমার অনেক বন্ধু ও বহু ভাইবোনসহ প্রায় ৫ কোটি মার্কিন নাগরিক এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে যাচ্ছেন, যিনি তাদের নিয়ে খুব কম চিন্তা করেন। যদি আপনি প্রতিটি ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন, যিনি প্রত্যেক পদে মানুষকে অসম্মান করেছেন এবং মানবিকতা কম দেখেন, তবে তার জবাব তিনি নিজেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের প্রতিটি পদে আপনি সম্মানিত হবেন না, কারণ অধিকাংশ মানুষই শ্রদ্ধার যোগ্য হয় না। বন্ধুত্বহীন বিশ্বে ভালোবাসাহীন মানুষের ধর্মবিশ্বাস এটি।

ট্রাম্প বারবারই বলেছেন, তিনি কোন নায়ক নন, লিংকন, ম্যান্ডেলা, জ্যাকি রবিনসন অথবা ক্যাপ্টেন চেসলি সুলেনবার্গারও নন। আপনি যদি ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান হয়ে থাকেন, তবে আপনার সম্পর্কে সবকিছু বিরুদ্ধে গেলেও অনেকেই আপনাকে বিশ্বাস করবে। আমার এ ধরনের অন্ধবিশ্বাসের একজন বোন রয়েছে। তার ধর্মগুরু তাকে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ’। আমি নিশ্চিত নই, এর রহস্য এখনও উদঘাটন হয়েছে কিনা। আমি আমার বোন ও সর্ববিশ্বাসী মানুষকে ট্রাম্প ‘টেন কমান্ডমেন্ট’ (বাইবেলের ১০ মূলনীতি) অনুসারে দিনাতিপাত করছে কিনা তা দেখতে বলেছি।

ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে এসব মূলনীতির ৮টি ভঙ্গ করেছেন। মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে মিথ্যার বড় স্কোর গড়েছেন তিনি। যৌনতা ও অন্য নারীদের প্রতি লালায়িত হওয়া এবং বিবাহিত নারীদের নিয়ে আক্রমণাত্মক কথা বলেছেন ট্রাম্প। সত্যই, তিনি কাউকে হত্যার প্রতিশ্রুতি দেননি, তবে তিনি ফিফ্থ এভিনিউয়ের সামনে কাউকে গুলি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি আমার কোনো সমর্থককে হারাতে চাই না।

যদি আপনি শ্বেতাঙ্গ শ্রেণীর সদস্য হন, অথচ কম শিক্ষিত, তবে ট্রাম্প আপনাকে নামেমাত্র ভালোবাসবে। দেশের ধনিক শ্রেণী ও বাকি জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈসাদৃশ্য বিশাল। ফলে কলেজ শিক্ষিত শ্রমিক ও যে কখনও স্কুলের দরজায় যায়নি- তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। গত বছরে ৬৫ বছরের কম বয়সী শ্রমিকদের মধ্যে ২০ শতাংশের অধিক পুরুষদের বেতনের ভিত্তিতে কোনো কাজ দেয়া হয়নি। ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধে তার কর ও অভিবাসী নীতি দেশের জন্য যন্ত্রণা বয়ে আনবে এবং তার দলের সমর্থকদের মধ্যে অর্থনৈতিক সমস্যায় থাকা নাগরিকরাও সুবিধা পাবে না। তার কর পরিকল্পনা ‘তেলা মাথায় তেল দেয়া’র মতো ধনীদের কল্যাণ বয়ে আনবে এবং দেশটিকে আরেকটি মন্দার দিকে ধাবিত করবে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দেয়া প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পরিসংখ্যান অনুসারে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক নীতিতে আগামী ৫ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। অভিবাসী নীতিতে আগে থেকেই সরব ছিলেন ট্রাম্প। তিনি বারবার বলে এসেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে অভিবাসীদের প্রবেশ আটকে দেবেন তিনি। কিন্তু গত ১০ বছরে বহু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে অভিবাসী হয়েছেন, তার বক্তব্যে এ কথার উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে- এ কথার উল্লেখ নেই ট্রাম্পের ভাষণে। তবে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন অবকাঠামো খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এ রকম আরো খবর

নিউইয়র্কে অকাল প্রয়াত রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত : মরদেহ দেশে প্রেরণ

নিউইয়র্ক: অকাল প্রয়াত আবু সুফিয়ান রিফাত (২৩) এর নামাজে জানাজাবিস্তারিত

জর্জিয়ায় বাংলাদেশী দীপঙ্কর দাসের উপর হামলা

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় দীপঙ্কর সদাস (৬০) নামের একবিস্তারিত

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী রিফাতের অকাল মৃত্যু

নিউইয়র্ক: অকালেই ঝড়ে গেলেন বাংলাদেশী রিফাত (২৩)। চলে গেলেন নাবিস্তারিত

  • যুক্তরাষ্ট্র আ. লীগের সাবেক সভাপতি অনু’র ইন্তেকাল
  • ডা. মুকিত পরিবারের পুত্র মুন্তাজিম ডাক্তার হলেন
  • ঐক্যের আহবানে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ‘গেট টুগেদার’ অনুষ্ঠিত
  • মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অপরাধে আদালতে ফিনল্যান্ড প্রবাসীর দন্ড
  • যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ : আকতার হোসেন আবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
  • বিএনপি নেতা মিলন নিউইয়র্কে
  • ফোবানা’র নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা
  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭ বাংলাদেশী ডিপোর্ট
  • ফ্লোরিডায় জমজমাট এনএবিসি কনভেনশন
  • রোববার নিউইয়র্কে রুনা-সাবিনা’র লাইভ কনসার্ট
  • চমৎকার ব্যবস্থাপনা : মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানমালা : রুনা-সাবিনা সহ শিল্পীদের নাচ-গানে মুগ্ধ প্রবাসীরা : বর্ণাঢ্য ফোবানায় চমকালো ফ্লোরিডা
  • নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে ১৫জন নতুন সদস্য
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.