র্সবশেষ শিরোনাম

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

ইউরোপের পথে পথে-১

আইফেল সুন্দরী প্যারিস

হাবিবুর রহমান: স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় নরওয়েজিয়ান এয়ার সাটলের যন্ত্র পাখীটা প্যারিসের চার্য দ্য গল সংক্ষেপে সিডিজি বিমান বন্দরে অবতরণ করলো। সময়টা ছিলো জানুয়ারী মাস। ভয় পাচ্ছিলাম ইউরোপের জেনারেল উইন্টার রিসিপসানটা কিভাবে দেয়। কিন্তু তা নয়। নিউইয়র্কের চেয়ে বেশী শীত অনুভুত হলো না। খুব ভারী লাগেজ ছিলো না সাথে। একটা মাত্র সুটকেস টানতে টানতে এয়ারপোর্ট ট্যক্সি ষ্টান্ডে হাজির হলাম। লাইনে দাড়াতেই এক সময় আমার সামনে এসে ট্যাক্সি দাড়ালো। তার হাতে লাগেজের দ্বায়িত্ব দিয়ে ভেতরে গিয়ে বসলাম। হাতে থাকা হোটেলের ঠিকানা এক নজর দেখেই ড্রাইভার তার সিটে গিয়ে বসলো। ধারণা করলাম আইফেল টাওয়ার সংলগ্ন হোটেলটি ড্রাইভারের অপরিচিত নয়।
এয়ারপোর্ট থেকে রওয়ানা হবার অল্প সময় পরেই নজরে এলো প্যারিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় আইফেল টাওয়ার যা ফ্রান্সের প্রতীক রূপে গোটা দুনিয়ার পরিচিত। প্যারিস নামের মধ্যেই যেন একটা যাদু আছে। এটা আমার স্বপ্নের শহর। ভালোবাসার শহর। ফ্যাশন আর ফরাসী বিপ্লবের শহর প্যারিসে আমি সত্যিই পৌছে গেছি তা যেন বিশ্বাসই হতে চাইছিলো না। ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা বাস্তিল দুর্গ, মোনালিসা, ল্যুভর মিউজিয়াম, সীন নদী, দ্য ভিঞ্চি এমনি কতোকিছু মিছিলের মত মানসপটে ভেসে উঠেছিল। অস্থির হয়ে উঠছিলাম কখন প্যারিসে গিয়ে পৌছাব।
ইন্টারনেটে আইফেল টাওয়ারের নামের সাথে সাদৃশ্য এবং টাওয়ার থেকে হাঁটা পায়ে ৫ মিনিটের দূরত্ব দেখে ‘হোটেল ফ্রান্স আইফেল’ এ থাকার জন্য রুম বুকিং দিয়েছিলাম। ট্যাক্সি বড় রাস্তা থেকে নেমে একটি গলিপথে এসে থামলো। হাত ইশারায় সামনে দেখিয়ে দিল আমার নির্ধারিত হোটেলটি। বাইরে থেকে হোটেলটাকে দেখে আশাহত হলাম। ইউরোপের মত দেশে বিশেষ করে প্যারিসে এমন সাদা মাটা হোটেল আশা করিনি।
রিসিপসানে গিয়ে বুকিং দেখালে আমার হাতে ৩ তলার রুমের চাবি বুঝিয়ে দিলো। কোন বেল বয় নেই। তাদের নির্দেশিত পথে সুটকেসটাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলাম এলিভেটরের সামনে। এলিভেটর এসে থামলো। ভেতরে ঢুকে আরো একবার ধাক্কা খেলাম। কোন মতে দু’জন লোক দাড়াতে পারে এমন একটা এলিভেটর। লাগেজ থাকলে একেবারে ঠাসাঠাসি হবে।
কর্মসূত্রে আমি সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াই। এযাবত কালে আমার দেখা সম্ভবত এটাই এলিভেটরের ক্ষুদ্রতম মডেল। আমার জন্য আরো বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো। এলিভেটর আমার জন্য নির্ধারিত ফ্লোরে গিয়ে থামার পর দরজাটা অল্প একটু খুলে আটকে থাকলো। দুই হাত দিয়ে সজোরে টেনে দরজা খুলে বাইরে বেরালাম। আমার জন্য বরাদ্দকৃত রুমটি এলিভেটরের পাশেই ছিলো। তাড়াহুড়ো করে রুমে লাগেজগুলো রেখে ছুট দিলাম আইফেল টাওয়ারের পথে। উদ্দেশ্য সূর্য ডোবার আগেই যেন একবার আইফেল সুন্দরীর সাক্ষাত পাই।
রাস্তা খুঁজতে হলো না। ব্যাকপ্যক আর কাঁধে ক্যামেরা সহ অগনিত জনতার মিছিল অনুসরণ করে কয়েক মিনিটে পৌঁছে গেলাম আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে। যা এতদিন স্বপ্ন ছিলো আজ বাস্তব হয়ে ধরা দিলো চোখের সামনে।
এই সেই বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার যা ১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শত বার্ষিকীর মেলা উপলক্ষ্যে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নির্মাণ করা হয়। ৮১ তলার বাড়ীর সমান উঁচু টাওয়ারটি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ছিলো পৃথিবীর উচ্চতম টাওয়ার। বিখ্যাত ফরাসী স্থপতি গুস্তাভ আইফেল এ স্থাপনার নকশা করেন এবং তার নামানুসারে এর নাম করণ করা হয় আইফেল টাওয়ার।
মাত্র দুই বছরের চেষ্টায় ৩০০ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই আইফেল টাওয়ার নির্মিত হয়। এই ১২৫ বছরে ২ কোটি ৫০ লক্ষ লোকের পদধুলি পড়েছে এই লৌহ মানবীর শরীরে। কত যুদ্ধ আর বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে আজও দাড়িয়ে আছে আমাদের মত মানুষের বিস্ময়ের উদ্রেগ ঘটাবে বলে। বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে আইফেল টাওয়ারের ছবি তুললাম। পুরো চত্বর ঘিরে বেশ একটা মেলার আমেজ। দেশ বিদেশ থেকে লোক এসে মাতিয়ে তুলেছে আইফেল প্রাঙ্গন। কোরাস গান, ড্রাম বাজানো, নৃত্য সবই চলছে এ অঙ্গনে। বলা যায় একটা এলাহী কান্ড।
ঘুরতে ফিরতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে টের পাইনি। কালো আইফেল টাওয়ারের গা ভরে সারি সারি শত শত বাল্ব জ্বলে উঠতেই চমক ভাংলো। কালোর মধ্যে যেন হঠাৎ আলোর মালাপরে জ্বলে উঠলো আইফেল সুন্দরী। চমৎকার ভাবে চারবাহু ভরে চমকাচ্ছিল টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টার। অপূর্ব! যেন চোখ জুড়িয়ে গেলো।
আস্তে আস্তে ফেরার পথ ধরলাম। আইফেল টাওয়ার দেখার উত্তেজনায় এতক্ষণ শীতের প্রকোপ তেমন অনুভব করিনি। এখন যেন শীতটা চেপে ধরেছে। রাস্তার পাশে একটু পর পর ক্যাফে চোখে পড়ছে। তারই একটায় ঢুকে কফির অর্ডার দিলাম।
বেশ সাজানো গোছানো কফি শপটি। ভাবুক ভাবুক চেহারার বেশ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছে চুটিয়ে। আমি এক কোনায় গিয়ে বসলাম। একজন সুন্দরী পরিচারিকা এক কাপ কফি দিয়ে গেলো। একেবারেই ছোট কাপ। বুঝলাম এদিয়ে আমার হবে না। পর পর তিনবার অর্ডার দিলাম। পরিচারিকাটি যেন অবাক হয়ে আমাকে দেখছিলো।
ক্যাফে থেকে বেরিয়েই টের পেলাম শীতের আক্রমন। তাড়াহুড়া করে হোটেল থেকে বেরোনর ফলে কানটুপি বা মাফলার সাথে আনতে পারিনি। তাই রাস্তার পাশে একটা জামা কাপড়ের দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম। কাউন্টারে ছিলেন একজন বাংলাদেশী ভাই। তিনি স্বাগত জানালেন। সাশ্রয়ী মূল্যে একটা কানঢাকা টুপী কিনলাম তার কাছ থেকে। তার কাছে জানতে চাইলাম আশে পাশে কোন ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন হালাল খাবারের দোকান পাওয়া যাবে কিনা। হেসে জানালেন বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট আছে আশে পাশে বেশ কয়েকটি। তার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে অল্প দূরত্বে বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্টটি খুঁজে বের করলাম।
FullSizeRender (1)রয়েল রাজস্থান রেষ্টুরেন্ট। নামটি ভারতীয় তবে পরিচালনায় একজন বাংলাদেশী। বাড়ী কুমিল্লায়। খুবই যত্ম করে বসালেন। সাদা ভাত, মুরগীর মাংস, ডাল যত্ম করে বানানো সালাদ দিয়ে পেট পুরে খেলাম। শেষে চা। প্রথমে দাম নিতে চাইছিলো না- দেশী ভাই বলে কথা! বললো কয়েকদিন তো থাকবেন। কাল থেকে দেবেন। বুঝলাম বিদেশে বাঙ্গালী মাত্রই স্বজন। তারপরও একটা ২০ ইউরোর নোট টেবিলে রেখে বেরিয়ে এলাম।
রেষ্টুরেন্ট থেকে বেরোতেই অনুভব করলাম রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করেছে শরীরে। আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করেছি নিউইয়র্কে। তার পর কোন বিশ্রাম ছাড়াই ভোঁ দৌড়ে জেএফকে এয়ারপোর্ট। তার পর বিরতিহীন বিমান যাত্রা। আইফেল টাওয়ার দেখার পর মনে হলো ক্লান্তিটা যেন চাদরের মত আমার শরীরে জড়িয়ে ধরেছে।
দ্রুতপায়ে হোটেলে ফিরে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লাম বিছানায়।

এ রকম আরো খবর

গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় উত্তর আমেরিকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

নিউইয়র্ক: গভীর শ্রদ্ধায় বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে শহীদ বীর বাঙালীদের স্মরণবিস্তারিত

জাকির খানের প্রথম মৃত্যুবাষির্কী ২২ ফেব্রুয়ারী

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিতমুখ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ওবিস্তারিত

প্রবাসের বাংলা সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব চাই, সুস্থ প্রতিযোগিতা চাই

নিউইয়র্ক: প্রবাসের জনপ্রিয় টেলিভিশন টাইম টিভির মিডিয়া বিষয়ক বিশেষ মুক্তবিস্তারিত

  • ‘কমেমোরেটিভ গার্ডেন এন্ড প্ল্যাক’ নির্মাণের খবরে কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ
  • ফ্লোরিডায় ২৫তম এশিয়ান ট্রেড-ফুড ফেয়ার ও কালচারার শো ১৭-১৮ মার্চ
  • অমর একুশ পালনে নিউইয়র্কে ব্যাপক প্রস্তুতি
  • বাংলাদেশের সঙ্কটে দেশপ্রেমিক কারো চুপ করে থাকার সময় নেই ॥ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী
  • বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তর মতো নেতার বড়ো প্রয়োজন
  • খালেদা জিয়ার মামলা ও রায় পুরো রাজনৈতিক
  • ভারপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ : আজাদ সভাপতি ফারুক সা. সম্পাদক
  • ঢাবি এলামনাই এসোসিয়েশন : শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে একুশের অনুষ্ঠান শুরু
  • ১১ ফেব্রুয়ারী ছিলো শামসুল আলম স্বপনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী
  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে আ. লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
  • হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ
  • জাতিসংঘের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র ব্যাপক বিক্ষোভ
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.