র্সবশেষ শিরোনাম

রবিবার, আগস্ট ২০, ২০১৭

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

ব্রিটিশ নির্বাচন: তিন বাঙালী পুনরায় জয়ী : ঝুলন্ত পার্লামেন্টে আবারও সরকার গঠন করছেন থেরেসা মে

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি আবারো জয়লাভ করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল ভালো করেছে। ফলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সূতিগাকার বৃটেনে। গত ৮ জুন বৃহস্প্রতিবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৬৫০ আসনের মধ্যে একটি ছাড়া সব ক’টি আসনের ফলই ঘোষণা হয়ে গেছে। ফলপ্রাপ্ত ৬৪৯টি আসনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। আর প্রধান বিরোধী দল জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১ আসন। নির্বাচনে বিরোধীদল লেবার পার্টি থেকে বাংলাদেশী বংশদ্ভুত তিন নারী যথাক্রমে রুশনারা আলী, রুপা হক ও টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফলে প্রেক্ষিতে আবারও সরকার গঠন করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা থেরেসা মে। শুক্রবার (৯ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে এবং বাংলাদেশ সময় বিকেলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে তার রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে তিনি এই কথা জানান। এর মধ্যদিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো সত্ত্বেও দেশের নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি সমমনা ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড দলের সমর্থন নেবেন।
থেরেসা তার সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে ব্রিফিংয়ে বলেন, সবচেয়ে বেশি আসন ও সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ায় একমাত্র আমাদের দলেরই সরকার গঠনের এখতিয়ার আছে। তাই ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্টদের সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারে এবং ক্রান্তিকালে যুক্তরাজ্যকে এগিয়ে নেবে এমন সরকার গঠন করা হবে।
কনজারভেটিভ পার্টির এ নেতা জানান, তিনি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্টের বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। এজন্য তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, চলুন একসঙ্গে কাজ করি। বৃহস্পতিবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিত আগাম এ নির্বাচনে ৬৫০ আসনের মধ্যে একটি ছাড়া সব ক’টি আসনের ফলই ঘোষণা হয়ে গেছে। ফলপ্রাপ্ত ৬৪৯টি আসনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। আর প্রধান বিরোধী দল জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১ আসন।
৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৩২৬ আসন। সে হিসেবে ৮ আসন দূরেই থেমে গেল ক্ষমতাসীনরা। এখন সমমনা ওই ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট তাদের সমর্থন দিলেই জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার চালাতে পারবে কনজারভেটিভরা। কিন্তু বিগত নির্বাচনে ৩৩১ আসন পাওয়া কনজারভেটিভরা এবার এভাবে জনপ্রিয়তা হারানোয় থেরেসাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান করবিন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা টিম ফ্যারনও থেরেসাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার যদি আত্মসম্মান বোধ থাকে, তবে পদত্যাগ করা উচিত।
ব্রেক্সিটের পর গত বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া থেরেসা গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক নির্বাচনের ডাক দেন। ২০২০ সালে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার এই আগাম নির্বাচন আহ্বানকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করার পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল, থেরেসা নিজেই বেশ অস্বস্তি ডাকলেন।
তৃতীয় মেয়াদেও বিজয়ী রুশনারা
টানা তৃতীয়বার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী রুশনারা আলী। লেবার পার্টির এই প্রার্থী দেশটির বেথনালগ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ৩৫ হাজার ৩৯৩ ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
রুশনারা আলী পেয়েছেন ৪২ হাজার ৯৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির আইনজীবী চার্লে ক্রিরিসো পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট। সিলেটের মেয়ে রুশনারা ২০১০ সালে প্রথম কোনো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালেও তিনি এই আসনে বিজয়ী হন।
জয়ী রুপা হক
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রূপা হক। লেবার দলীয় প্রার্থী রূপা হকের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৩৭। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।
গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জয় পাওয়া রূপা এবার জিতেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৫ সালে রূপা হক প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হঠাৎ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা দেয়ায় রূপা হককে দুই বছরের মাথায় আসনটি ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয়।
লন্ডনের মধ্যে এবার রুপার আসনটি এবার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে রুপা গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসের বিজয় ঠেকাতে এবার পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তারা লেবার প্রার্থী রুপাকেই সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি (ইউকিপ) কনজারভেটিভ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। মাত্র তিনজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করেন। অপর প্রার্থী হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের জন বল।
কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে তার আদি বাড়ি পাবনায়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অপর দুই এমপি রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক আবারও জয় পেতে যাচ্ছেন। বুথ ফেরত জরিপে দুই এমপি নিজ নিজ আসনে জয়ী হবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভোট গণনার সর্বশেষ খবরও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরা লেবার দলীয় প্রার্থী।
রুশনারা আলী বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন ধরে রাখতে লড়ছেন। রুশনারা ২০১০ সালে প্রথম কোনো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আসনটি তৃতীয় মেয়াদে ধরে রাখার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে টিউলিপ দ্বিতীয় মেয়াদে আসন ধরে রাখার জন্য লড়ছেন। শিগগিরই এসব আসনের ফলাফল জানা যাবে।
আবারও নির্বাচিত টিউলিপ
বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে লেবার দলের প্রার্থী টিউলিপ পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। ২০১৫ সালে মাত্র এক হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। এবার সেই ব্যবধান বেড়ে হলো ১৫ হাজার ৫৬০।
২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হুট করে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার দুই বছরের মাথায় আসনটি ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয় টিউলিপকে।
টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে। একদিকে পারিবারিক পরিচয়, অন্যদিকে লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির দখলে। এটি সবসময় তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবার কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ডকে সমর্থন দিয়ে ডানপন্থী ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

এ রকম আরো খবর

রিপালিকানরা হতাশ: স্কারামুচি ক্ষমতার নতুন বলয়ে : হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার লড়াই চরমে

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার চরম দ্বন্দ নিয়ে খোদবিস্তারিত

নিউইয়র্কের হাসপাতালে গুলি নিহত ১

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: ব্রঙ্কসের একটি হাসপতালে এক বন্ধুকধারী অতর্কিত হামলাবিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে নাইটক্লাবে গুলি, আহত ১৭

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসয়ে শুক্রবার (৩০ জুন) একটি নাইটক্লাবেবিস্তারিত

  • জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • সেই শার্লি এবডোর বিরুদ্ধে এবার ইতালিতে ক্ষোভ
  • আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিশ্বাস করে নি বাংলাদেশ সরকার