র্সবশেষ শিরোনাম

রবিবার, জুন ২৪, ২০১৮

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

শেষ বলের ছক্কায় হার : ফের কান্না : লড়াই করেই হারল বাংলাদেশ

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: শ্রীলংকায় নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের তীব্র উত্তেজনাকর ফাইনালে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েও ক্রিকেট সুপার পাওয়ার ভারতের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ের এতো কাছে এসেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডুবলো টাইগাররা। কলম্বোতে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের শিরোপা এনে দেয়ার নায়ক দিনেশ কার্তিক। শেষদিকের নাটকীয়তায় অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ১৬৭ রানের টার্গেট অতিক্রম করান অভিজ্ঞ কার্তিক। ২টি ৪ ও ৩টি ছক্কায় খেলেন ৮ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। ১৮তম ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে মানিশ পান্ডের (২৮) উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। জয় থেকে তখন ৩৪ রান দূরে টিম ইন্ডিয়া। হাতে ১২ বল। ক্রিজে আসেন কার্তিক। আগের ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়া রুবেল হোসেনের করা ১৯তম ওভারে ২২ রান নিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি।
শেষ ওভারেপ্র্রয়োজন ছিল ১২। সৌম্য সরকারের করা পঞ্চম বলে লংঅনে সতীর্থের মুখোমুখি হয়ে বিজয় শংকরের (১৭) ক্যাচ ছাড়ার উপক্রম হলেও শেষ পর্যন্ত তালুবন্দি করেন মিরাজ। দিক বদল করে স্ট্রাইকে চলে আসেন কার্তিক। জয়ের জন্য চাই ১ বলে ৫ রান। কাভারের উপর দিয়ে চোখ ধাঁধানো শটে বাউন্ডারি পার করে সতীর্থদের বাঁধভাঙা উল্লাসের মধ্যমণি বনে যান কার্তিক। হতাশার সাগরে ডুব দেয় বাংলাদেশ। টাইগারদের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের অধরা স্বপ্নপূরণের অপেক্ষাটাও বাড়লো।
এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি-অর্জন কম নয়। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে রাউন্ড রবিন পর্বের দুই ম্যাচেই হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। ভারতের জিততে জিততেও জেতা হলো না চ্যাম্পিয়নের মুকুট। টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই সঙ্গী হলো হারের হতাশা আর আক্ষেপ। বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডে, ভুববেশ্বর কুমার ও জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার মাটি জয় করলো রোহিত শর্মার দল। ফাইনালের মঞ্চে ৫৬ রান করে আউট হন রোহিত। শিখর ধাওয়ান ১০, সুরেশ রায়না (০), লোকেশ রাহুল ২৪ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ৬ উইকেট হারিয়ে নাটকীয় জয়।
এর আগে সাব্বির রহমানের ৫০ বলে ৭৭ রানের সুবাদে নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে নাটকীয়ভাবে ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দেন দিনেশ কার্তিক। ফলে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। তার আগে আজ রোববার শ্রীলংকার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় ভারত। ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ২ ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। উদ্বোধনী জুটিতে ২৭ রান যোগ করেন তারা। এরপরই বিচ্ছিন্ন হন তারা। ১১ রানে থাকা লিটনকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন অফ-স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর।
লিটন ফিরে যাবার ৬ বল পর বিদায় ঘটে আরেক ওপেনার তামিমেরও। ১৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন তামিম। ২৭ রানেই পরপর দু’উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেন চার নম্বরে নামা সৌম্য সরকার। ২ বল মোকাবেলা করে ১ রান করে সৌম্য ফিরে গেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৩।
এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমান ও মুশিফকুর রহিম। দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। তবে দলের স্কোরটা বেশি দূর নিতে পারেননি সাব্বির ও মুশফিক। ৩১ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তারা। এর মধ্যে ৯ রান অবদান রেখে থেমে যান মুশফিকুর।
দলীয় ৬৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর আবারো বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। সাব্বির ও মাহমুদুল্লাহ জুটিতে শতরানের কোটা পেরিয়ে যায় টাইগাররা। কিন্তু বাংলাদেশের স্কোর তিন অংকে পৌঁছানোর পরই থামতে হয় মাহমুদুল্লাহকে। সাব্বিরের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন মাহমুদুল্লাহ। ১৬ বলে ২১ রান করেন তিনি। সাব্বিরের সাথে ৩৬ রান যোগ করেন মাহমুদুল্লাহ।
মাহমুদুল্লাহ’র মতো রান আউট হয়েছেন সাকিবও। ৭ বলে ৭ রান করেন টাইগার দলপতি। জুটিতে ২৯ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন হন তারা। এরমধ্যে ২২ রানই ছিলো সাব্বিরের। এর মধ্যেই টি-২০ ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৭৭ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। শেষের দিকে মেহেদি হাসান মিরাজের ৭ বলে অপরাজিত ১৯ রানে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করে বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষে চাহাল ৩টি উইকেট নেন।
শেষ বলের ছক্কায় হার : ফের কান্না:
অবিশ্বাস্য! আফসোসে মোড়ানো অবিস্মরণীয় সমাপ্তি। বাংলাদেশের হাতের মুঠো থেকে আরো একবার ছুটে গেল শিরোপা। ফের কান্না সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। প্রেমাদাসার শোক ছড়িয়ে পড়লে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে। সাব্বিরের ৭৭ আর মোস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং যে আশা জাগিয়েছিল সে আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিলেন দিনেশ কার্তিক। মাত্র আট বল খেলে দলকে জেতালেন, নিজেও জিতে নিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
কোন প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা অধরাই রয়ে গেল বাংলাদেশের। বড় ব্যবধানে হারলে হয়তো এতটা দূঃখ হতো না যতটা হলো শেষ বলের হারে। সারা দেশে ভেঙে পড়ে কান্না আর হতাশায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেবল আলোচনা এ খেলা নিয়েই। কেউ বা হতাশ কেউ বা ক্ষুব্ধ। কারো ক্ষোভ সাকিবের ওপর, কারো ক্ষোভ রুবেলের ওপর। আগের ম্যাচে যেখানে মাহমুদুল¬াহ পুরো চার ওভার বল করেন সেখানে মেহেদী হাসান মিরাজ মার খাওয়ার পরে তাকে দিয়েও এক ওভার বল করানো যেত। কেন রুবেলকে ১৯তম ওভারে আনা হলো আর তিনিই বা কেন তেমন পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে দিনেশের তোপের সামনে হার মানলেন। ১২ বলে ভারতের দরকার ছিল ৩৫ রান। কিন্তু ওই ওভারেই ২২ রান নিয়ে খেলায় ফিরে আসে ভারত।
শেষ ওভারের নাটকীয়তায় এবার কপাল পুড়লো বাংলাদেশের। এর আগে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ঢাকার মাটিতেই বাংলাদেশ মাত্র ২ রানে ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল। আর গত টি-২০ বিশ্বকাপেই ভারতের বিপক্ষে হারের ক্ষত এখনো পোড়ায় বাংলাদেশিদের। আগের ম্যাচেই যেখানে ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। সেখানে শেষ বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের হাত থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়ে গেল ভারত। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১২ রানের। বোলার বাকি ছিলেন সৌম্য সরকার, যিনি নিয়মিত বোলার হিসেবে গণ্য নন। অনেকের সংশয় ছিল পারবেন কি সৌম্য? অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান তিনি দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু দিনেশ কার্তিকের দানবীয় মূর্তির সামনে শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে যান তিনি। আগের বলেই বিজয় শংকরকে ফিরিয়ে আরো উদ্দীপ্ত করে তোলেন সবাইকে। জয়ের সুবাস পাচ্ছিলেন সম্ভবত তিনিও। শেষ বলটি করার আগে খুব একটা ভাবেন নি সৌম্য। একটু অফের দিকে ছিল বলটি। খুব ওঠেওনি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। কার্তিকের আঘাতে বল উড়ে চলে যায় সীমানার বাইরে। আট বলে ২৯ রান করেন তিনি। তিনটি ছক্কা আর দুটি চার মারেন ৩২ বছর বয়সী এ উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান।
শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাদের আসর শুরু হয়েছিল তারাই শেষ হাসি হাসলো। নিয়মিত দলের ছয় জনকে দেশে রেখে এসেও ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ১৮তম ওভারে কোন রান না দিয়ে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন। না হয়, এর আগ পর্যন্ত বাংরাদেশের ১৬৬ রানের জবাবে ভারতকে তেমন চাপে পড়তে দেখা যায়নি। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন ফিফটি করে। ৪২ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। শুরুতে তিনিই রানের গতি বাড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন। শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নাকে আগেভাগে বিদায় করলেও লোকেশ রাহুল ২৪ ও মনিষ পান্ডে ২৮ রান করে ভারতের সে ক্ষতি পুষিয়ে দেন। মন্দ করেননি ১৭ রান করা বিজয় শংকরও।
ম্যাচ হারার জন্য বোলারদের যদি দায়ী করেন তবে দায়টা তার চেয়েও বেশি ফিল্ডারদের। হাত থেকে বল ছুটে যাওয়া আর ঠিক জায়গায় না দাঁড়ানোর কারণে যেমন ভারতের রান বেড়েছে তেমনি ঠিকভাবে বল থ্রো করতে না পারার কারণে কয়েকবারই রানআউট করার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর এসবই ভারতকে এগিয়ে নিয়ে গেছে জয়ের দিকে। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাও যেন তেমন লড়াকু ছিল না। অনেক দিন পরে নেতৃত্বে আসা সাকিবের ভূমিকাও দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি। বোলার ব্যবহারেও হিসেবি মনে হয়নি তাকে। রুবেল হোসেন যখন ১৯তম ওভারে মার খাচ্ছিলেন তখন তাকে ঠিকভাবে পরামর্শও দিতে দেখা যায়নি তাকে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান চার ওভারে ২৮, নাজমুল ৩২ আর রুবেল ৩৫ রান দেন। মোস্তাফিজ চার ওভারে দেন ২১ রান। একটি মেডেন ওভারও পান তিনি। রুবেলের সমালোচনা করা হলেও এ রুবেলই প্রথম তিন ওভারে ১৩ রান দিয়ে দু উইকেট নিয়ে নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের ফেরে তাকেই যে খলনায়ক হয়ে যেতে হবে কে জানতো।

এ রকম আরো খবর

ইংল্যান্ড-পানামার খেলায় গোল উৎসব ॥ কেইনের হ্যাট্রিক

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: পানামার বিপক্ষে রীতিমত ছেলে খেলায় মেতেছিল ইংল্যান্ড।বিস্তারিত

শেষ ষোলতে বেলজিয়াম ॥ তিউনিশিয়ার বিদায়

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপে শনিবারের (২৩ জুন) প্রথম খেলায়বিস্তারিত

ক্রোয়েশিয়ার কাছে উড়ে গেল আর্জেন্টিনা

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক: ফেভারিট তকমাটা বাড়াবাড়িই মনে হলো আর্জেন্টিনা দলেরবিস্তারিত

  • ২০২৬ আসরের স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা
  • কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে
  • বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৮ ॥ রাশিয়ায় ৮ গ্রুপে লড়ছে ৩২ দল : পায়ে পায়ে কথা বলছে ফুটবল
  • বিশ্বকাপ ফুটবলে ভিএআর
  •  রাশিয়াতে বিধ্বস্ত সৌদি আরব
  •  বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন
  • এক্সিট ফুটবল লীগ ও টুর্নামেন্ট-২০১৮ শুরু ২৪ জুন : ৮টি দল অংশ নেবে
  • নতুন ক্রিকেট টিম দ্য সুপারনোভা’র আতœপ্রকাশ
  • চলতি বছরের লীগ ও টুর্নামেন্ট বিষয়ক সভা ১৩ মে রোববার
  • লন্ডনে সৈয়দ নবেল ফজলু’র কৃতিত্ব
  • ২০১৮ সালের নিউইয়র্কে ‘ফুটবল লীগ ও টুর্নামেন্ট’ বিষয়ে মতবিনিময়
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.