র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

হিন্দু জঙ্গিদের শসস্ত্র ট্রেনিং এবং………..

আবু জাফর মাহমুদ: আসাম বা অসম প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক দল ভিজেপি তার জঙ্গিকর্মীদেরকে শসস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রকাশ্যে। গণতন্ত্র হত্যা ও মানবিক চেতনার উপর আদিম বর্বরতার বিষাক্ত নখ বিস্তারের এই মহড়াকে হিন্দুজঙ্গিত্বের নির্লজ্জ মহড়া বলছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের এই প্রদেশের সামাজিক রাজনৈতিক ধারায় উগ্রবাদী পৃষ্ঠপোষকতার ফলে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে ভয় ভীতির প্রভাবে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সিলেট সহ ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোয় নিরাপত্তাহীনতা আরো বেড়ে জনজীবনের অনিশ্চয়তার ধাপ এখন তুঙ্গে ওঠার পথ নিয়েছে। সীমান্ত থেকে শিল্প ও বন্দর এলাকাগুলো পর্যন্ত এই দীর্ঘ অর্থনৈতিক গতিপথে যে অস্থিরতার উত্থান করানো চলছে,তার প্রভাব ফুটে উঠছে সকল বাসা বাড়ীতেও।
এমনকি ভারত-বাংলাদেশে আমেরিকা, চীন রাশিয়া এবং ইওরোপীয় স্বার্থ রক্ষার সামনে প্রধান বাধা হয়ে উঠছে। হিন্দু জঙ্গিবাদ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তাগত হুমকির প্রধান উপসর্গ হয়ে উঠেছে। মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে এই জঙ্গিরা মুসলমান ছদ্মনামে যে পাশপোর্ট ও আইডি নিয়ে স্যাবোটেজ করছে তার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপকতা দেখা দেবে অন্যান্য অঞ্চলেও। বিশ্লেষকরা একথাও আভাস দিচ্ছেন, এই জঙ্গিবাদ ভারতীয় সমাজকে খন্ডিত করতে বাধ্য করতে চলেছে।
ভারতে এই জঙ্গিবাদী থাবায় হিন্দু-মুসলমান, হিন্দু-খৃষ্টান, হিন্দু-আদিবাসী ও হিন্দু-বাঙালীর রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িকত বিস্তারের ফাঁদ থাকার প্রমাণ প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃত অর্থে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পলিসি হচ্ছে, স্থানীয় জনজীবনকে হানাহানিতে ব্যস্ত রেখে লুণ্ঠনের নতুন অধ্যায়ের পথ সহজ করা। অঞ্চল জুড়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিস্তার করে ভারতীয় আধিপত্যনীতি কার্যকর করা। একই সাথে সমগ্র অঞ্চলকে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার উত্তাপের চূলোয় রূপান্তর করা। উক্ত মধ্যযুগীয় কৌশলগত উত্যক্তের কড়া অভিযোগের চাপে মলিন হয়ে গেছে মোদী সরকারের মুখ।যার প্রেক্ষিতে ভারতে আভ্যন্তরীণ রাজনীতি আবার সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। এবার সংঘাত চালুকারীর ভূমিকা নিয়েছে বিজেপি জোট সরকার নিজেই।
কথা হচ্ছে,নিজ দলীয় লোক অথবা দলের প্রতি আগ্রহীদেরকে শসস্ত্র প্রশিক্ষণ করার এই রীতিনীতির সাথে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সামান্য সং¯্রবও নেই। তাই, কেন্দ্রীয় সরকারের বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই শসস্ত্র নীতি চালুর বিষয়টি নিয়ে ভারতের মিত্র এবং শত্রু দেশগুলোর দুশ্চিন্তাও যৌক্তিক। ভারতীয় সীমান্ত এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র দেশগুলোর দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতার ভয়ের তাপে মাত্রা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
এইভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় নাগরিকদেরকে জঙ্গি বানানোর খোলা নীতি এবং বিজেপিহীন রাজ্যগুলোয় রাজ্য সরকারগুলোর বিরোধীতার অজুহাতে জঙ্গিবাদী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করায় আমেরিকা সহ অন্যান্যদেশে ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশাধিকারে নিয়ন্ত্রণ চালু করার বিবেচনা দরকার। এই জঙ্গিরা যেকোন দেশে স্যাবোটাজ বা অন্তর্ঘাত করছে ছদ্মবেশে। জঙ্গীবনে হুমকি যেকোন দেশের জন্যে। হিন্দু জঙ্গিরা খৃষ্টানদের মুসলমানদের, আদিবাসীদের সহ সবাইকে হত্যা করছে, বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করছে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। এদের এই বিদ্বেষনীতি বিশ্বমানবতার শত্রুতা।এই ভয়াবহ রাজনৈতিক জঙ্গিত্বকে যত শীঘ্রই সম্ভব নিরুৎসাহিত করা জরুরী।
ভারতের বিজেপি শাসিত অসমে উগ্রবাদী বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কর্মীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। ২৯ জুলাই শনিবার অসম প্রদেশ কংগ্রেস দলের প্রধান রিপুন বোরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, দু’টি ডানপন্থি সংগঠন তাদের সাংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে নিজ সদস্যদের হোজাইয়ের গীতা আশ্রমে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নারী শাখা ‘দুর্গা বাহিনী’র কর্মীরাও নলবাড়িতে একইভাবে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
বলাবলি হচ্ছে, ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশে হিন্দুজঙ্গিত্বের উৎপাত বাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসনের চাপ বৃদ্ধির তৎপরতা এখন ভারতীয় লুটেরাদের। তাদের এই সন্ত্রাসী ধারাটির লক্ষণ কোনো যুক্তিতেই গণতন্ত্রের কল্যাণের কাজ নয় বলে সব মহল থেকে সমালোচনা আসছে। আসাম সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগণকে পারস্পরিক হানাহানি ও রক্তপাতে ডুবিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ বিদ্বেষ নীতি চালু হয়েছে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কংগ্রেস নেতা রিপুন বোরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এক স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাতে লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণের এক ভিডিও চিত্রও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বলেছেন রাজ্যের ভিজেপি সরকার এব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না ।
একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গেছে, অসমের হোজাইতে একটানা ১০ দিন ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দুর্গা বাহিনীর অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কয়েকদিন আগে অসমে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দুর্গা বাহিনীর অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্গা বাহিনীর বন্দুক প্রশিক্ষণকে মারাত্মক প্রবণতা বলে মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতা সুজন চট্টপাধ্যায় বলেন, ‘ভারতে যেভাবে আরএসএসের পরিকল্পনায় বিভিন্ন বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি চলছে, তা খুবই বিপজ্জনক। কোথাও বিজেপি-আরএসএসের নামে লাঠি খেলা ও তার প্রশিক্ষণ শিবির, কোথাও দুর্গা বাহিনীর নামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে। আমরা পশ্চিম বাংলাতেও দেখেছি গত কয়েকদিন আগে রাম নবমীতে স্কুল ছাত্রীদের কীভাবে তলোয়ার দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে।’
গত এপ্রিল মাসে রাম নবমীতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে তলোয়ার হাতে নিয়ে মিছিল করে শক্তি জাহির করা হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা অবশ্য কোনো সমালোচনাতেই কান দিতে রাজি নন। পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োজনে দুর্গা বাহিনী বন্দুক হাতে তুলে নেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি বলেন, এখনো আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবিনি তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামীতে ওদেরকে আমরা বন্দুক প্রশিক্ষণ দেব।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এ রকম আরো খবর

আমার দেখা ২১ আগস্টের ভয়াবহতা

আবুল বাশার নূরু: দৈনিক ‘নতুনধারা’ প্রকাশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ারবিস্তারিত

ভয় নাই, ওরে ভয় নাই

নিনি ওয়াহেদ: ঘটনার আকষ্মিকতায় বিস্মিত, হতবাক! কী অপরাধে মামলা, গ্রেফতার,বিস্তারিত

ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধোলাই

আবু জাফর মাহমুদ: ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্র নীতিরবিস্তারিত

  • ভারত আমেরিকা যুদ্ধচুক্তির উত্তপ্ত প্রভাব চীন পাকিস্তানে
  • কাস্মীরে সহিংসতা নিরসনে জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারী হচ্ছে