র্সবশেষ শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

ভয় নাই, ওরে ভয় নাই

নিনি ওয়াহেদ: ঘটনার আকষ্মিকতায় বিস্মিত, হতবাক! কী অপরাধে মামলা, গ্রেফতার, দন্ড এবং দন্ড ভোগও। হোক তা স্বল্পস্থায়ী, দ্রুত ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা, সমালোচনার তুফান।
ঘটনাটি এরকম যে, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে (১৭ মার্চ, ২০১৭) শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আয়োজনে বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও গাজী তারেক সালমান। দুই বিভাগে দুইজন শিশুর পুরস্কার প্রাপ্ত দুটি ছবি যার একটি বঙ্গবন্ধুর ছবি, অন্যটি মুক্তিযুদ্ধের। ইউএনও এই দু’টি ছবি দিয়ে তৈরি করেন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণ পত্র। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি নিয়েই ঘটে বিপত্তি।
ছবিটি বিকৃতভাবে অঙ্কিত যা মানহানির এবং ছবিটি কেন আমন্ত্রণপত্রের শেষ পৃষ্ঠায় ছাপা হয় এই অপরাধে সেই ইউএনও যিনি বর্তমানে বরগুনায় দায়িত্বরত, তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। মামলাটির যৌক্তিকতা কতখানি বা আদৌ তা আছে কী নেই, বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই একজন বিচারক তা আমলে নিয়ে বিচার করে দন্ডাদেশ প্রদান করেন। এবং দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আবার দু’ঘন্টা পর জামিনে তাকে মুক্তিও দেয়া হয়।
পঞ্চম শ্রেণীর কোমলমতি ১১ বছরের একজন শিক্ষার্থী কেমন করে ‘জাতির পিতা’র ছবি বিকৃত করে আঁকার কথা ভাবতে পারে? অথবা এমন চিন্তা শিশু মনে কীভাবে উদয় হতে পারে? যে নাকি একটা প্রতিযোগিতায় এসেছে অংশ নেয়ার জন্য। সে তো তার সর্বাত্মক চেষ্টা দিয়েই ছবিটি একেছে। একজন শিশুর আঁকা ছবি কতখানি নিখুঁত হতে পারে সে কথাটি কী বিবেচ্য নয়? শিশুটি তো আর পটুয়া শিল্পী কামরুল হাসান নয়- যে নিপুন হাতে নিখুঁত কোন শিল্পকর্ম দুই শিশুর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বিস্মিত হতে হয় যে একজন মানুষ যার আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের দায়িত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন তার মস্তিস্ক প্রসূত এই মামলাটি হতে পারে এবং মহামান্য আদালতের একজন বিচারক মামলার সারবত্তা রয়েছে কী না তা বিচার-বিশ্লেষণ না করেই তাকে কেমন করে আমলে নিলেন তা বুঝতে অক্ষম অনেকেই। মামলাকারী এবং বিচারক একবারও ভেবে দেখলেন না একজন শিশুর মনো জগতে কিসের বীজ বপন করছেন তারা, বুদ্ধিবৃত্তির জায়গাটিকে কীভাবে ধূসর করে তুলছেন- কোন ভাবনাই তাদের চিন্তার জগতে কাজ করছে বলে মনে হয় না। এতটাই অন্ধকারে নিমজ্জিত তারা।
জানা গেছে এই ইউএনও বরিশালের আগৈলঝাড়ায় থাকাকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের চরম দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রোষানলে পড়েন। ৬ মাসের মাথায় তাকে সেখান থেকে বদলী করে দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয়। আর অপরাধের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা-যার কারণে বহু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েন, পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ, টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে (কাবিখা) বেশ কিছু অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানানো ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি সেখানে প্রায় সকলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
ফলে তাকে সেখান থেকে বিতারিত হতে হয়। তাকে বিদায় করে দিয়েই তারা তাদের ক্রোধ প্রশমিত করতে পারেনি। শিশুদের আঁকা ছবি দিয়ে আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি ও অবমাননার অপরাধে তাকে জেলের ভাত খাওয়াবার প্রতিজ্ঞায় অটল ওবায়েদ উল্লাহ সাজু মামলা ঠুকে দেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরের ভাষায় বলতে হয় “হাইব্রিড” ও “কাউয়া”রা যারা আজ প্রকৃত আওয়ামী লীগের ও বঙ্গবন্ধুর ভক্তের জায়গা দখল করে নিতে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। যারা ত্যাগী ও আদর্শবান মানুষগুলোকে ক্রমে দূরে সরিয়ে ‘চাটুকার বাণিজ্যে’ সফল হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাদের যদি কঠোর হস্তে দমন করা না যায় তাহলে আওয়ামী লীগ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মান, মর্যাদা ও জনপ্রিয়তাকে তারা ক্ষুন্ন করে ছাড়বে এটা বলা যায় নিঃসন্দেহে। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা ও জনবিচ্ছিন্ন করে তোলার জন্য এই ‘হাইব্রিড’রা ‘চাটুকার বাণিজ্য’কে এতটাই জনপ্রিয় করে তুলেছে যে আওয়ামী লীগের ত্যাগী, বিশ্বস্ত নেতারাও অনেক কিছু ভুলে যেতে শুরু করেছেন। তারাও এই চাটুকারদের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুও এক সময়ে চাটুকারদের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং এদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু ততদিনে অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এক বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে বাঙালী জাতিকে। যে ক্ষতি কোনভাবেই পূরণ হবার নয়- আজও তা হয়নি বরং বাঙালী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। চাটুকারদের বাণিজ্য সফল হওয়ায় দুর্নীতি আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ কঠোর হতে হবে প্রথমে দলীয় নেতা কর্মীদের ব্যাপারে। তারপরে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত।
যে ইউএনওকে নিয়ে এই তোলপাড় সেই গাজী তারেক সালমান একজন সৎ, কর্মদক্ষ, ন্যায়পরায়ণ ও কর্মোদ্যমী তরুণ সরকারী কর্মকর্তা- যিনি এই দেশকে দেশের মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারেন। জীবনের শুরুতে তাকে যে তাকে যে অন্যায়-অবিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং হচ্ছে ভবিষ্যতে আমরা তার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করতে পারি। তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তাকে যেভাবে নাজেহাল করা হয়েছে তার আশু প্রতিকার অত্যন্ত জরুরী।
দেশে আজও শত সহ¯্র সৎ মানুষ যেমন আছেন তেমনি আছেন সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা এই সালমানের মত প্রভাবশালী, দুর্নীতিবাজদের রোষানলে পড়েও সততার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টা করছেন এমন বেশ ক’জনার কথা আমি পাঠকদের সাথে শেয়ার করবো আগামীতে।
রাজনীতির নামে, দলবাজির নামে, ধর্মের নামে, হীনস্বার্থ চরিতার্থের নামে যদি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথকে এভাবে রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়-যদি তাদের মধ্যে কল্যাণবোধ, মানবতাবোধ, সত্য ও সুন্দরের আলো না জ্বালিয়ে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয় তাহলে ওবায়েদ উল্লাহ সাজুর মতই মনুষ্যত্বহীন মানুষদেরই সাক্ষাত মিলবে আগামীতে।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের ‘মহৎ জীবন’ প্রবন্ধের কথা মনে পড়ে যায় যেখানে তিনি বলেছেন “মানব সমাজের যখন অধঃপতন হয়, তখন শুধু ধর্ম বিশ্বাস তাদেরকে বড় করে রাখতে পারে না। জীবনের প্রকৃত আনন্দলাভ হয় মহত্বের ও মনুষ্যত্বের পরিচয় দিয়ে”। ১৯২৬ সালে অর্থাৎ প্রায় শতবর্ষ আগে মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের এই প্রবন্ধটির প্রয়োজনীয়তা আজ বোধহয় বড় বেশি হয়ে দেখা দিয়েছে আমাদের জীবনে।
শেষ করার আগে বলতে চাই গাজী তারেক সালমানদের দেশ প্রেমিক তরুণদের কাজ করে দিন স্বাধীনভাবে। তাদের সততা, যোগ্যতা ও ন্যায় নিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হউন। তাদের মত মানুষকে এবং তাদের কাজকে ভালবাসতে শিখুন। অন্যথায় আপনাদেরও মানুষের মত বেঁচে থাকার পথ একদিন বন্ধ হয়ে যাবে।
নিউইয়র্ক।

এ রকম আরো খবর

আমার দেখা ২১ আগস্টের ভয়াবহতা

আবুল বাশার নূরু: দৈনিক ‘নতুনধারা’ প্রকাশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ারবিস্তারিত

ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধোলাই

আবু জাফর মাহমুদ: ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্র নীতিরবিস্তারিত

হিন্দু জঙ্গিদের শসস্ত্র ট্রেনিং এবং………..

আবু জাফর মাহমুদ: আসাম বা অসম প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিকবিস্তারিত

  • ভারত আমেরিকা যুদ্ধচুক্তির উত্তপ্ত প্রভাব চীন পাকিস্তানে
  • কাস্মীরে সহিংসতা নিরসনে জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারী হচ্ছে