র্সবশেষ শিরোনাম

শনিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

বাংলা পত্রিকা

Main Menu

সপ্তাহের শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবাদ নিয়ে

আমার দেখা ২১ আগস্টের ভয়াবহতা

আবুল বাশার নূরু: দৈনিক ‘নতুনধারা’ প্রকাশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দৈনিক ভোরের ডাকে যোগ দিয়েছিলাম। ঢাকা রির্পোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত পথিক সাহা তখন পত্রিকাটির প্রধান প্রতিবেদক। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান প্রতিবেদক থাকাকালীন অকালে মারা যান পথিক সাহা।
২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশের রির্পোট করার অফিশিয়ালি দায়িত্ব ছিল আনোয়ার হকের। বর্তমানে তিনি আরটিভিতে কর্মরত। বিকেল তিনটার আগেই অফিসে গেলাম। পথিক সাহা বললেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যান। বললাম আনোয়ার ভাই গেছেন। বড় সমাবেশে একজন না চারজন রিপোর্টার যাওন লাগে, এক্ষণি যান বললেন- পথিক সাহা।
পায়ে হেটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পৌছালাম। রমনা ভবনে উঠার সিড়ির নিচে দেখা হলো তৎকালীন বিরোধীদলের নেতা শেখ হাসিনার প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি ও প্রধান সম্পাদক, আওয়ামী লীগ বিটের শাহ নেওয়াজ দুলাল, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন। প্রচন্ড গরমে সবার অবস্থায় কাহিল। নেতাদের বক্তব্য শেষে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুরু হল। দীর্ঘদিন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য নোট নেওয়ার কারণে কে কখন বক্তব্য শেষ করবেন তা মোটামুটি বুঝতে পারতাম। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রায় শেষের দিকে। এরপর মিছিল বের হবে। জিরো পয়েন্টে যাওয়ার জন্য রাস্তার পশ্চিম পাশে গেলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ডাক দিলেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত মোস্তাক আহমেদ সেন্টু ভাই। আওয়ামী লীগ অফিসের দক্ষিণ কোনায় ছিল নূরুর চায়ের দোকান। সমাবেশের কারণে দোকানটি সেদিন একটু সরিয়ে নিয়েছিল সে। নুরুর দোকানের সামনে দাঁড়ানো সেন্টু ভাই। তিনি চা খেতে বললেন। গরমে চা খাবো না বলাতে তিনি বললেন, আরে গরমে গরম কাটে। এরমধ্যে চায়ের কাপ এগিয়ে দিল নুরু। তার সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক খুবই ভাল। চা কিছুটা খেয়েছি, এর মধ্য শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শেষ করলেন। ফটো সাংবাদিক গোর্কি শেখ হাসিনাকে একটু দাঁড়াতে বললেন। ছবি তুলছেন ফটো সাংবাদিকরা। সেন্টু ভাইকে বললাম সামনে যাই। তিনি বললেন মুইও যামু। ল এক লগে যাই। হঠাৎ বিকট শব্দ। লোকজন ছুটাছুটি করছে।
আওয়ামী লীগ অফিসের দক্ষিণ পাশে কাঠের দোতলা মার্কেট ছিল। সেই মার্কেটে ঢুকে গেলাম আমি। দেখার চেষ্টা করছি সবকিছু। হঠাৎ দেখলাম এক মহিলায় রাস্তায় পড়ে আছে। সারা শরীর তার রক্তে ভেজা। সেন্টু ভাই মহিলাটিকে উদ্ধার করতে কাছে গেলেন। প্রচন্ড শব্দ আর মানুষের আর্তনাদ।
ধুয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। ট্রাক দিয়ে তৈরি মঞ্চের দিকে চোখ পড়ল। অনেকে লাফিয়ে নামছেন। ৫/৬ জন মিলে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনাকে। তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। কেবল শাড়ির খানিকটা আচল দেখে বুঝলাম ট্রাকে শেখ হাসিনা রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ নেতারা কলেমা পড়ছেন। এই ভয়াবহ বিপদের সময় দক্ষতা দেখতে পেলাম শেখ হাসিনার গাড়ি চালকের। নামটি মনে পড়ছে না। তিনি যেভাবে গাড়িটি মঞ্চের কাছে নিলেন তা না দেখলে বর্ণনা করা যাবে না।
প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীর একাধিক সদস্য শেখ হাসিনাকে বুলেট প্রুপ গাড়িতে তুলে দিলেন। গাড়ির ভেতর উঠার সময় না পেয়ে রড ধরে ঝুলে থাকতে দেখলাম মায়া চৌধুরীকে।
শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয়।
হঠাৎ চোখ পড়ল আইভি রহমানের দিকে। কাশেম নামের এক কর্মী তাকে ধরে রেখেছে। দুচোখ বড় করে এক দৃষ্টি তিনি তাকিয়ে আছেন। কাশেম যাকেই দেখছে তাকেই ডাকছে আইভি রহমানকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের গেটের পাশে বসে আছেন রফিকুল ইসলাম। তাকে সবাই আদা চাচা বলেই ডাকতেন। সাংবাদিকদের তিনি খুবই প্রিয় ছিলেন। বাসা থেকে শুকনা আদা কৌটায় ভরে আনতেন। সাংবাদিকদের সবাইকে দিতেন। নেতারাও বাদ যেতেন না। আতা চাচা ইশারায় আমাকে ডাকলেন। তার কাছে যাওয়ার জন্য পা এগিয়েছি হঠাৎ দেখি গ্রেনেড পড়ে আছে। পড়ে জানলাম এর নাম গ্রেনেড। আবার লোকজনের ছুটাছুটি শুরু হল। দেখতে পেলাম আহত বাহাউদ্দিন নাসিমকে। পংকজ দেবনাথকে একটি মোটর সাইকেলে করে কে যেন নিয়ে গেল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনকে দেখলাম রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। রক্ত ঝড়ছে তার শরীর থেকে।
এতবড় ভয়াবহ ঘটনা অফিস জানানো দরকার। দৌড়ে মেহেরবা প্লাজা ভোরের ডাক অফিসে গেলাম। পথিক সাহাকে জানালাম বিষয়টি। ক্রাইম রির্পোটার দেব দুলাল মিত্র, জিলানী মিল্টন ও আমাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠালেন পথিক সাহা।
কোনো যানবহন নেই। হেটে হাসপাতালে পৌছালাম। সেখানে এক ভয়াবহ চিত্র। অনেক চিকিৎসক ভয়ে পালিয়েছে। আহতদের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। পাশেই রাখা হয়েছে নিহতদের। সারিবদ্ধ সব পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন যাদেরকে রাজপথে দেখেছি। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাদের সঙ্গে। শেখ হাসিনার একজন দেহরক্ষীর চিব্বাহ বেশ কিছুটা বেরিয়ে আছে। তাকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য ছুটাছুটি করছিলেন। মনে পড়ে তৎকালীন এটিএন বাংলার নঈম নিজাম, মুন্নী সাহা, ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর বেপারী রক্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন স্থানে ফোন করছেন। অনেক সংবাদকর্মী মটর সাইকেল নিয়ে ছুটছেন বিভিন্নস্থানে।
আমার পায়ে রক্ত, খালি পা দেখে কোনো একজন জানতে চাইলেন আমার অবস্থা কী। সেন্ডেল হারিয়ে গেছে, আমি তেমন আহত হইনি বললাম তাকে।

এ রকম আরো খবর

মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির নয়া অধ্যায়

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে খুশীর চোটে যে হাসি হাসতে ইসরাইলিবিস্তারিত

প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা : অভিশাপ না আর্শিবাদ

রোহিঙ্গারা আজ পৃথিবীর সবচাইতে দুর্ভাগা জাতি। যারা বার বার নির্যাতিতবিস্তারিত

সাড়ে ছয় কোটি রাজাকার

মনজুর আহমদ: বাহাত্তর সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘হলিডে’ পত্রিকার একটি বিখ্যাতবিস্তারিত

  • অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ
  • ভয় নাই, ওরে ভয় নাই
  • ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধোলাই
  • হিন্দু জঙ্গিদের শসস্ত্র ট্রেনিং এবং………..
  • ভারত আমেরিকা যুদ্ধচুক্তির উত্তপ্ত প্রভাব চীন পাকিস্তানে
  • কাস্মীরে সহিংসতা নিরসনে জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারী হচ্ছে
  • error: Content is protected !! Please don\'t try to copy.